আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার ভরাবহতা মোকাবিলায় সরকার নো মাস্ক, নো সার্ভিস নীতি চালু করেছে এবং এই নীতি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলা, পর্যবেক্ষণ, জরিমানাসহ বিভিন্ন কার্যকরী উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে। যার ফলে মাস্ক ব্যবহারে সাধারণ জনগণের মধ্যে আগ্রহ বেড়ে চলছে। মাস্ক ব্যবহারে জনগণের আগ্রহ যেখানে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে অথচ একটু সচেতনতার অভাবে তা বয়ে আনছে হতাশার চিত্র।
ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যেন এখনকার নিয়মিত চিত্র। যার ফলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে পথচারী যে-কেউ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের মাত্র ৬ দশমিক ৬ ভাগ করোনা বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা হয় বাকি ৯৩ দশমিক ৪ ভাগ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে। মেডিক্যাল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কুচক্রী মহল এসব মেডিক্যালসামগ্রী নিয়ে কালোবাজারি করছে, যা সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস সংগ্রহ করত তারপর সেগুলো ধুয়ে, ইস্তিরি করে পুনরায় বাজারে চড়া দামে বিক্রি করত, যা ভাইরাস সংক্রমণের আরো ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের সকেট দেওয়া মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাস্ক ব্যবহারের পর যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়ার ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির জরিপ দেখায়, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট কনসার্ন-এর জরিপ বলছে মানুষের ব্যবহূত মাস্ক এবং গ্লাভসের ৯২ শতাংশ নদীনালায় গিয়ে মিশছে। এসব তথ্য সংক্রমণ ঝুঁকি, পরিবেশ দূষণসহ সামুদ্রিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অশনিসংকেত দিচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একটু অসচেতনতার কারণে মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
ব্যবহূত মেডিক্যাল বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা নিয়ে যে ভয়ংকর সংকেত পাওয়া যাচ্ছে সেটি মোকাবিলা করাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারের উচিত মাস্ক ব্যবহারে সরকার যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও যেন কঠোর অবস্থান নেয়। সরকার গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে সাধারণ জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারে। প্রয়োজনে রাস্তার পাশে আলাদা ডাস্টবিন স্থাপন করা। তাছাড়া জনসাধারণের উচিত ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গে না ফেলে সেগুলো যেন ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করে অথবা পুড়িয়ে ফেলে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় সরকার, পৌর প্রশাসন, সাধারণ জনগণ সবার এ বিষয়ে সদিচ্ছা প্রয়োজন কেননা সরকার কিংবা জনগণ কারো একার পক্ষে এত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সুন্দর আগামী এনে দিতে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়