বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় ঢাবি শিক্ষক সমিতি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি করেন সংগঠনের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং কোষাধ্যক্ষ। 

মানববন্ধনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সৃজনশীল শিল্প প্রকাশের মাধ্যম হল ভাস্কর্য। এটি মানুষের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে থাকে। যখন ভাস্কর্যবিদ্যা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন মানবিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। সভ্যতাবিরোধী এসব অপশক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া বাঞ্ছনীয়। এদেরকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উপাচার্য বলেন, দুটো অপরাধ তারা করেছে। একটি হলো জাতির জনকের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের হীন প্রয়াস। অন্যদিকে মানবিক বিকাশ ও মানুষের সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত করা, মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, মানবতার গতিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপপ্রয়াস। এই দুই মানদণ্ডে তারা মারাত্মক অপরাধ করেছে। সেই অপরাধের সাথে যারা জড়িত, সেই মানুষগুলোকে চিহ্নিত করা হোক এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় দুয়েকজন গ্রেফতার হলেও এর পেছনে ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতার করার দাবি করেন তিনি। 

আরো পড়ুন: সাভারে প্রথম কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠিত 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, কুষ্টিয়াতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ওপর যে হামলা তা কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, এটি মূলত এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কৃতির ওপর হামলা। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে জাতির বিপক্ষে দাঁড়ানো, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে দেশে-বিদেশে যে ইসলামি সভ্যতাগুলো রয়েছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। অতীতে যেমন আমরা ধর্মান্ধ, মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম এখনও তেমন নেব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলে সবসময় তাদের প্রতিরোধ করবো। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। যেকোনো অপঘাত যদি আসে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সে অপশক্তিকে আমাদের জ্ঞান দিয়ে, চর্চা দিয়ে, ধারণা দিয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, এই বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতার ভাস্কর্য নির্মাণে বাধা ও ভাঙচুর করা হবে এটা কল্পনাও করা যায় না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এর বিরুদ্ধে নাও দাঁড়ায়, কোনো সরকার যদি এর বিরুদ্ধে নাও দাঁড়ায়, কোনো ব্যক্তি যদি নাও দাঁড়ায় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তার ঐতিহ্য নিয়েই এর প্রতিবাদ করবে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এসকল মৌলবাদীরাই বিরোধিতা করেছিলো। আজ এরা আবারো আস্ফালন শুরু করেছে। একাত্তরের রাজাকারদের প্রেতাত্মা এরাও রাজাকার। এখন আবার সময় এসেছে এসকল রাজাকারদের বিরুদ্ধে আবারো মুক্তিযুদ্ধ করার।

এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, সিনেট সদস্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক  আবুল মনসুর আহমেদ, টেলিভিশন ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এএএম