পাকিস্তানে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে একটি হাসপাতালে ছয় করোনা ভাইরাস রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডারের দৈনিক সরবরাহ না আসায় শনিবার সন্ধ্যায় পেশোয়ারের খাইবার টিচিং হাসপাতালে সমস্যা দেখা দেয়, তখন ভেন্টিলেটরের প্রয়োজনীয় চাপ সরবরাহ করতে অসমর্থ হয় ৩০০টি ব্যাকআপ সিলিন্ডার।
এতে করোনা ভাইরাস ওয়ার্ডের পাঁচ রোগী ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) এক রোগী মারা যান বলে সরকারি এ হাসপাতালটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। মৃত রোগীরা সবাই পূর্ণবয়স্ক বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তারা অক্সিজেনের জন্য হাসপাতাল কর্মীদের কাছে কাকুতিমিনতি শুরু করেন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত মার সঙ্গে হাসপাতালে থাকা মুরীদ আলি বলেন, ‘আমাদের রোগীদের বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল জুড়ে ছুটাছুটি শুরু করি আমরা, চিকিত্সা কর্মীদের কাছে ভিক্ষা চাই।’ শেষে কিছু রোগীকে জরুরি বিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়, তখনো সেখানে সরবরাহকৃত কিছু অক্সিজেন অবশিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে সেগুলোরও চাপ কমে আসলে কয়েক জন রোগী মারা যান। বহু রোগীর অবস্থার অবনতি হয়ে সংকটজনক পর্যায়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত রোগীদের স্বজনদের অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনার চেষ্টা করতে বলেন হাসপাতালটির কর্মীরা, কিন্তু মাত্র কয়েক জন তা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন আলি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন স্বল্পতার জন্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিকে দায়ী করেছে। তার পরও হাসপাতালের কয়েক জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দেরি হওয়া ঐ অক্সিজেন সরবরাহ রবিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে এসে পৌঁছলে সংকট কাটতে শুরু করে। অক্সিজেনের এই স্বল্পতাকে ‘অপরাধপূর্ণ অবহেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন হাসপাতালটির কর্মকর্তারা।
এক তদন্তে দেখা গেছে, ঐ সময় হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টে যাদের দায়িত্বে থাকার কথা সেই কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন না এবং সেখানে থাকা অক্সিজেন ট্যাঙ্কটি নিয়মিতভাবে কেবল আংশিক পূর্ণ করা হতো। তদন্তে এসব উঠে আসার পর হাসপাতালটির পরিচালকসহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়। পাকিস্তানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজার ২৯৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪২ জন সুস্থ হয়েছেন ও ৮ হাজার ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ডন জানিয়েছে।