ঝিনাইদহ জেলায় বাড়িতে বসে আউটসোর্সিং করে কয়েকশ ছেলে মেয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়েছে। জেলায় কতজন আউটসোর্সিং করে জীবিকা অর্জন করছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসক অফিসে নেই। তবে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িতরা বলেন, জেলায় আনুমানিক ২ হাজারের বেশি ছেলেমেয়ে আউটসোর্সিং করছেন। এদের মধ্যে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এরা মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকার বেশি উপার্জন করছেন। কেউ কেউ পড়াশুনার পাশাপাশি আউটসোর্সিং করে টাকা উপার্জন করছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যারা সফল হয়েছেন, তাদের একজন হচ্ছেন ঝিনাইদহ শহরের মো. নাজমুল আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে চাকরির পেছনে না দৌড়ে ২০১১ সাল থেকে আউটসোর্সিং শুরু করেন। ঝিনাইদহ শহরে একটি ট্রেনিং সেন্টারও স্থাপন করেছেন। তার ট্রেনিং সেন্টারে ছেলেমেয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তারপর তারা আউটসোর্সিং শুরু করেন। নতুন অবস্থায় মাসে ৫-৬ হাজার টাকা উপার্জন করেন। মেধা থাকলে সফলতা অর্জন করা যায়। তিনি জানান, তার জানা মতে অনেকে আছেন, যারা মাসে ১ হাজার ডলারের বেশি উপার্জন করেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগই গ্রাফিক্স এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করেন।
ঝিনাইদহে আউটসোর্সিং সফল আরেক জন হচ্ছেন মো. মামুনুর রহমান। আট বছর আগে কলেজে পড়ার সময় আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করেন। এখন শক্ত অবস্থান গড়ে নিয়েছেন। শুধু নিজেই নয়। তার সঙ্গে আছে আরো ৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন। এখান থেকে তারা এই কাজগুলো করে থাকেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করে থাকেন। তিনি জানান, আউটসোর্সিং কাজেও এখন বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা চলছে। এরমধ্যে প্রতিযোগিতা করে ক্যারিয়ার গড়তে হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন মেধা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা। বর্তমানে মাসে তাদের টিম প্রায় ৪ হাজার ডলারের ওপরে উপার্জন করছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সহজলভ্য ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং বিশ্বব্যাপী পেমেন্ট মেথড পেপ্যাল না থাকার কারণে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শহরের আরাপুরের ফিরোজ হোসেন দোলনা কলেজে পড়ার সময় আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি দাঁড়িয়ে গেছেন। মাসে ৬০ -৬৫ হাজার টাকা উপার্জন করছেন বাড়িতে বসে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং করতে বেশি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। লাগে একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার। সে সঙ্গে দ্রুতগতির ইন্টারনেট লাইন। সাধারণত রাত জেগে কাজ করতে হয়। এ কাজেও পরিশ্রম আছে। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, এ জেলায় অনেক ছেলে মেয়ে আউটসোর্সিং করে ভালো উপার্জন করছেন। দেশের জন্য বাড়িতে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। তাদের সংগঠিত করে এ পেশার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।