নাটোরে হারিয়ে যেতে বসেছে ‘পলো উত্সব’

নাটোরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘পলো উত্সব’। এমন এক সময় ছিল যখন হেমন্তের শেষে ও শীতের শুরুতে নদী-খাল-বিলে প্রতিদিনই চলত পলো দিয়ে মাছ ধরার উত্সব, যা এখন খুব কমই চোখে পড়ে। তবে গ্রামবাংলার পুরাতন এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য গত শুক্রবার নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর বিলে পলো দিয়ে মাছ ধরা উত্সবের আয়োজন করা হয়।

হেমন্তের রোদ মাখা শীতে বিলের পানি কমে গেলে মানুষ দলে দলে পলো নিয়ে মাছ ধরতে বিলে নামেন। তলাবিহীন কলসির মতো দেখতে, বাঁশ-বেতের তৈরি  শৈল্পিক কারুকাজ করা যে খাঁচা দিয়ে মাছ ধরা হয় আঞ্চলিক ভাষায় তার নাম পলো। আড়াই থেকে তিন ফুট লম্বা আকৃতির এ খাঁচাসদৃশ পলো পানিতে তলদেশে ফেলে ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ শিকার করা হয়।

শুক্রবার আয়োজিত উত্সবে ১০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম মোমিনপুর ও মির্জাপুর গ্রাম থেকে কয়েক শতাধিক সৌখিন মাছ শিকারি অংশ নেন। পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক চাপ দেওয়া আর হইহুল্লোড় করে সামনের দিকে অঘোষিত ছন্দের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া। যেন এক নিজস্ব চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য। ব্রহ্মপুর বিলে মোমিনপুর থেকে আসা মাছ শিকারি আজগর, সুজন ও মোজাফফর জানান, খাল-বিলে আগের মতো আর মাছ নেই। বিভিন্ন ফাঁস জাল দিয়ে বা অবৈধভাবে বেড়জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করায় দেশীয় মাছ এখন হারিয়ে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক বলেন, ‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও/মজার মজার মাছ খাও’ সদলবলে পলো দিয়ে মাছ ধরার অভিযানে নামার স্লোগান ছিল এটি। কিন্তু এখন হারিয়ে যাচ্ছে পলো নিয়ে মাছ ধরা। আগামী প্রজন্ম পলো কি তা চিনবে না। নতুন প্রজন্মের জন্য এসব ঐতিহ্য ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে দাবি করেন।