অর্ধশতকের দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ। আমাদের সবার প্রিয়ভূমি। অনেক বেশি পছন্দের মাতৃভূমি। যার আদ্রশীতল ভূমিতে ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত যার ভূভাগ। সাজেক, নীলগিরি, চিম্বুক, নীলাচল ও তাজিংডং যার উঁচুনিচু পাহাড়সমূহ। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, কটকা বিচ, কুয়াকাটা, পারকির চর, পতেঙ্গা, দুবলার চর যার সমুদ্রতীর। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী আড়িয়াল খাঁ, ডাকাতিয়া, সন্ধ্যা, কপোতাক্ষ, সুরমা ও রূপসা যার তরঙ্গিণী। মাধবকুণ্ড ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা, বাঘবিয়ানি, সহস ধারা যারা পাহাড়ের বুকে কান্না। আমরা ১৮ কোটি বাংলাদেশি ৫০তম বিজয় দিবসের অপেক্ষায় আছি। ৫০ সংখ্যাটা দুই সংখ্যার হলেও এর মর্ম, এর ভার অনেক। যার জন্য আমরা হারিয়েছি জাতির সূর্য সন্তানদের। ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীনতার ৫০তম বছরের দ্বারপ্রান্তে। কত মা-বোন তাদের সংসার, সন্তানাদি বিসর্জন দিয়েছে এই স্বাধীন দেশের জন্য। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করেছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আশায়-নেশায় ও ভরসায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। লড়াই করেছিল অস্ত্র দিয়ে কিংবা নিরস্ত্র অবস্থায়। কত মা-বোন লালসার শিকার হয়েছেন পাকিস্তানি আর্মির কিংবা রাজাকারদের। পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের মানুষই ভাবতো না। আজ বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে অনেকাংশেই এগিয়ে গেছে। এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর আরো দূর। সাফল্যের স্বর্ণশিখর বেয়ে চলতে হবে দেশকে। তাক লাগিয়ে দিতে হবে বিশ্বকে। আয়তনে ছোট হলেও আমরা পারি। আমাদের পারতে হবে। আজকে বাংলাদেশিরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। নানাভাবে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরছে বিশ্ব দরবারে। কিছুদিন আগেও তরুণ সাদাত ও শিশুদের সাইবার-নিরাপত্তা অ্যাপ বানিয়ে ছোটদের নোবেল প্রাইজখ্যাত বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছে। এই অর্জন নড়াইলের সাদাতের। এই অর্জন বাংলাদেশের। দেশের শ্রমিকরা বহির্বিশ্বে শ্রম দিয়ে মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ব্যাংকে জমা করেছে ২০২০ সালে। যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর আরেকটি স্প্যান বসলেই দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। উন্মোচন হবে শতকোটি টাকার ব্যবসায়-বাণিজ্যের দুয়ার। পদ্মা পাড়ি দিতে দিতেই কারো জীবনবাতি টিকে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসবে। বুলেট ট্রেনের যুগে প্রবেশ করছি আমরা অচিরেই। ৫৫ মিনিটেই ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা যাবে। এরা ৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। পেতাম না স্বাধীনতার স্বাদ। আসত না মুজিববর্ষ। এই মুজিববর্ষে দাঁড়িয়ে সব বীর সেনানীর রুহের মাগফেরাত কামনা করি। সোনার বাংলাদেশ তোমার যেতে হবে দূর-বহুদূর। আমরা তরুণরা আছি তোমার সঙ্গে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,

চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।