তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দক্ষ প্যারামেডিক্স তৈরি জরুরি

দেশের তৃণমূলে দক্ষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা খুবই সীমিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি ১০ জন ডাক্তারের বিপরীতে যেখানে ৫০ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী দরকার, সেখানে বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র দুই জন। এই অবস্থার উত্তরণে অবিলম্বে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারামেডিকস তৈরি জরুরি। গতকাল সোমবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘কমিউনিটি প্যারামেডিকস :পল্লি বাংলাদেশের একটি দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বাহিনী’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শক সভায় এ বিষয় উঠে আসে। দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি প্যারামেডিকস কোর্স শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হন। এসব স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে তৃণমূলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে বক্তারা মত দেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে কমিউনিটি প্যারামেডিকসের সংখ্যা অনেক কম। এ পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৭০০ কমিউনিটি প্যারামেডিকস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫০০ জন গ্রামপর্যায়ে সেবা দিচ্ছেন। এই সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে তিনি জোর দেন। দেশে ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা বাড়াতে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. জামালুদ্দিন চৌধুরী বলেন, কমিউনিটি প্যারামেডিকসের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—উল্লেখ করে ডা. সারওয়ার বারী, লাইন ডিরেক্টর, ডিজিএফপি বলেন, এসব কর্মী দেশের স্বাস্থ্যসূচকে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। সে কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি প্যারামেডিকসের মতো স্বীকৃত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় তাদের অন্তর্ভুক্তিও জরুরি।

অ্যাচিভিং সাসটেইনেবিলিটি টুওয়ার্ডস হেলথ কেয়ার এক্সেস (আস্থা)-এর সিনিয়র উপদেষ্টা ডা. জাফর হাকিম বলেন, কমিউনিটি প্যারামেডিকসের সংখ্যা বাড়াতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বীকৃতিও প্রয়োজন। সুইস কন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুজিবুল হাসান এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা-৩ অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। বিএনএমসির রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম বলেন, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মেটাতে কমিউনিটি প্যারামেডিকসের কোনো বিকল্প নেই। এই কারণে সরকারের এই কর্মখাতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আস্থার টিমলিডার ফজলে রাজিক বলেন, দেশে যুবদের বেকারত্ব দূরীকরণ এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সুইস কন্ট্যাক্টের আস্থা প্রকল্প কাজ করছে। চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এসব স্বাস্থ্যকর্মী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।