বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপনের। এ ধরনের ম্যুরাল স্থাপনের প্রকল্পও রয়েছে সরকারের। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশের জেলা ও উপজেলায় জাতির পিতার ওপর নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও পোর্ট্রেটের (প্রতিকৃতি) যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এসংক্রান্ত এক মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালত বলেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার ভাস্কর্য থাকাটাই স্বাভাবিক। এই ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সেজন্য ভাস্কর্য ও ম্যুরালের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল তৈরির কার্যক্রমেও নিরাপত্তা প্রদান করতে বলা হলো।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের সেই দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস’ ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির জন্য নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল (প্রতিকৃতি) স্থাপন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষ থেকে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন গতকাল আদালতে পেশ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে দেশের ৩৮০টি উপজেলায় এবং ৬৩টি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স স্থাপনপূর্বক কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন করেছে।

এই পর্যায়ে আদালত বলেছে, ‘আমরা তো দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার হেডকোয়ার্টার্সে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছি। সে বিষয়ে অগ্রগতি কী?’

ডিএজি বলেন, দেশের সব জেলা-উপজেলার হেডকোয়ার্টার্সে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের প্রকল্প রয়েছে। যদিও করোনার কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের কিছুটা ব্যাঘত ঘটেছে। কিন্তু সেগুলো চলমান রয়েছে।

আদালত বলেছে, ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা করে গেজেট জারি হয়েছে। জেলা-উপজেলায় ম্যুরাল নির্মাণ করার কথা ছিল সরকারের। কিন্তু প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের সংসদ কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন করছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে করছে ভালো কথা, আমরা অ্যাপ্রিসিয়েট করি। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা হলো জেলা ও উপজেলার হেডকোয়ার্টার্সে করার।

রিটকারী আইনজীবী ড. বশির আহমেদ বলেন, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় দেশে বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত ম্যুরাল ও ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আদালতের নির্দেশনা দরকার। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আদেশ বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন এক মাসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চকে ঐতিহাসক জাতীয় দিবস ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ।