দশমিনায় পুলিশ গ্রেফতার করে আনার আধা ঘণ্টার মধ্যে থানায় আসামি মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে আসামি টয়লেটে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবারের দাবি আসামি বিষ পেল কোথায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেছে পরিবার।
জানা যায়, গত শুক্রবার ঢাকার সিএনজি চালক মো. লিটন খান গ্রামের বাড়ি এসে বাঁশবাড়িয়া রজ্জবিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি টিনসেট ঘর নির্মাণ করেন। ঐ রাতেই মাদ্রাসার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার মাওঃ সিহাব উদ্দিন শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর মাদ্রাসার জমি দখল ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের জন্য লিটনকে সন্দেহজনক আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ফেরদৌস বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি দশমিনাকে নির্দেশ দেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার দুপুরে এএসআই মামুন সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ভাতের টেবিল থেকে লিটনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে বলে জানান লিটনের পরিবার। বিকালে স্বজনরা জানতে পারেন পুলিশ লিটনকে বিষ খাওয়া অবস্থায় দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। পরে লিটনের অবস্থা বেগতিক দেখে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে রাত সোয়া ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
লিটনের বাবা আলাউদ্দিন খান জানান, দুপুরে গেঞ্জি গায়ে ভাত খাওয়া অবস্থায় পুলিশ লিটনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে কোনোকিছু নেওয়ার সুযোগ দেয়নি পুলিশ। তাহলে লিটন বিষ পেল কোথায়? তবে এ ঘটনায় এএসআই মামুনের ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, আমার কাছে ইউএনও স্বাক্ষরিত একটা অভিযোগ আসলে এএসআই মামুনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি। মামুন লিটনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে প্রসাবের কথা বলে টয়লেটে বিষ খেয়ে ডাকচিত্কার শুরু করলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয় । যদিও দশমিনা-গলাচিপা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, ইউএওর সুপারিশ কর্তৃক অভিযোগের ভিত্তিতে ভাত খাওয়ার টেবিল থেকে নয়, রাস্তার ওপর থেকে লিটনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ফেরদৌস জানান, আমি একটি অভিযোগ পেয়ে ওসিকে ফরওয়ার্ড করেছিলাম।