দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক ও পোশাক শ্রমিকদের পানি ছিটিয়ে ও লাঠিচার্জ করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ভোরে প্রেসক্লাবের সামনে ঘুমন্ত শিক্ষক ও শ্রমিকদের ওপর পুলিশ অতর্কিতভাবে এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে ১৫ জন শিক্ষক ও ২০ শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। লাঠিচার্জে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় সমাপ্তি ঘটেছে দুই থেকে আড়াই মাস ধরে চলা টানা অবস্থান কর্মসূচির।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি ছাড়া ঢাকায় কোনো সমাবেশ করা যাবে না। এটা কদিন আগেই ঘোষণা হয়েছে। তারা কোনো অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে সেখানে সমবেত হয়। আমরা গত কয়েকদিন ধরেই তাদের উঠে যাওয়ার জন্য বারবার বলেছি। তাদেরকে বলেছি যে আপনারা অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করুন। কিন্তু তারা শোনেনি। পরে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে লাঠিপেটার কথা মিথ্যা। এমন কিছুই করা হয়নি।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সা ও পুনর্বাসনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৮০ দিন ধরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। অন্যদিকে ৫৮ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশীরা। ২২ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। এওয়ান গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকরাও বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোখলেছুর রহমান বলেন, ভোর ৫টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের একটি দল আমাদের ওপর পানি ছিটাতে শুরু করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় লাঠিচার্জ। মো. রফিকুজ্জামান (৩৫) নামে এক শিক্ষক সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করে আসা তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড ও এওয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। কামাল মৃধা নামের তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে এক শ্রমিক বলেন, ঘুমন্ত শ্রমিকদের কাউকে কাউকে লাথিও মারে পুলিশ। আহত হন কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক। এওয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিক ফরহাদ বলেন, সরকারের কাছে দুইবেলা খাওয়ার মতো বেতনের দাবিতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দেওয়া হলো।
এদিকে পুলিশের লাঠিপেটার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের গতকাল বিকেলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের দাবি-দাওয়া সংবলিত কাগজপত্র শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।