তরুণ কান্তি পাল ও স্বপ্না রায়ের নতুন জীবন

‘মেরে ড্যাড কি দুলহান’। শুনতে সিনেমার মত মনে হলেও আসলে এই ঘটনাটি ঘটেছে আসল জীবনেও। বাবার নিঃসঙ্গতা দূর করতে এক মা’কে বাড়ি আনতে চায় সন্তান। এককথায়, বাবার বিয়ে দিতে চায় সে। 

কলকাতার বাসিন্দা তরুণ কান্তি পাল জীবনের ৬৬টি কাটিয়ে ফেলেছেন একাই। কারন তার স্ত্রী গত হওয়ার পর বিগত দশ বছর ধরে তিনি বড্ড একা। আর চাকরি সূত্রে তার সন্তান সায়ন কানাডায় থাকায় নিঃসঙ্গতায় ঘিরে তার জীবন। কিন্তু পথের বাঁকে যে বাঁচার নতুন আশা অপেক্ষা করেছিল, তা কল্পনাও করতে পারেননি কান্তিবাবু।

কিন্তু এই বয়সে নতুন সংসার পাতলে সমাজ কি ভাববে? সমাজ আদৌ মেনে নেবে তো? সবার থেকে তিরস্কারে জর্জরিত হতে হবে না তো? প্রতিনিয়ত এসব ভাবনা পাক খাচ্ছিল তাদের প্রায় সকলেরই মাথায়। কিন্তু ছেলে সায়ন তা মোটেও প্রশ্রয় দেননি। বরং বাবার বিয়ের ধুমধাম করে আয়োজন করে ফেলেন। পরিবার সম্পূর্ণ করার সকল আয়োজন শুরু করে ফেলেন নিমিষেই। সমাজের তথাকথিত ভাবনা থেকে বেরিয়ে বাবার বিয়ে দিয়ে নিজের জন্য মা আনেন বাড়িতে।

আরো পড়ুন: ‘সবাই এখন শিল্পের চেয়ে বাণিজ্যের দিকে বেশি ঝুঁকছে ’

গত ২৫ নভেম্বর "তরুণ কান্তি পাল" ও "স্বপ্না রায়" বিবাহ বন্ধনে আবধ্য হন। দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই বিবাহ অনুষ্ঠান। আর এই খুশির খবর ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সন্তান "সায়ন"। যা মুহূর্তে মন ছুঁয়ে যায় অনেকের। প্রায় সকলেই এই নবদম্পতিকে আগামী দিনের শুভেচ্ছা জানান। অগণিত মানুষের ভালবাসা আর শুভেচ্ছা পান সায়ন নিজেও। নিজেই বলছেন, এভাবে অভিনন্দনের জোয়াড় বয়ে যাবে, ভাবতেই পারেননি। সেই সঙ্গে জানান, অবশেষে বাবা নিজের জন্য সঙ্গী পাওয়ায় পূর্ণতা পেল তাঁর পরিবার। তাই দারুণ খুশি তিনি।

কান্তিবাবুর আদিবাড়ি ভট্টনগরে। বছর দুয়েক আগে অবসর নেওয়ার পর সেখানেই থাকতেন। রোজ নিয়ম করে গ্রামের রামকৃষ্ণ মঠে সকাল-বিকেল হাঁটতে যেতেন। আর সেখানেই জন্ম নিল নতুন এক প্রেম কাহিনীর। আলাপ যে কখন অনুরাগে বদলে যায় টের পাননি তাঁরা।

ইত্তেফাক/এনএসএন/এএইচপি