মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানায় জনবলের সংকট চরম আকারে পৌঁছেছে। গড়ে তিন জনের কাজ করছেন এক জন শ্রমিক। এর মধ্যেও গত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাজ করেছে কারখানাটি। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২ হাজার ৮৩৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮৬৮ জন। এ অবস্থায় অবসর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফলে কমছে জনবল। বর্তমানে ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী উত্পাদনব্যবস্থা সচল রেখেছেন।
সূত্র জানায়, প্রতিদিন কারখানায় মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে তিন ইউনিট রেলওয়ে কোচ। প্রতি দুই ইউনিটে একটি কোচ বোঝানো হয়। রেলওয়ে কারখানার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনাকালেও এখানে উত্পাদন হয়েছে প্রতিদিন প্রায় দুটি করে কোচ, যা লক্ষ্যমাত্রার অধিক। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩ দশমিক ৬৯টি কোচ, আগস্টে ৩ দশমিক ১৩, সেপ্টেম্বরে ৩ ও নভেম্বরে ৩ দশমিক ৩টি করে কোচ এই কারখানায় উত্পাদন হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (সিএমই) মুহম্মদ কুদরত-ই খুদা জানান, সম্প্রতি রেলওয়ের নিয়োগবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিগিগরই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্যব্যবস্থাপক (ডব্লিউএম) শেখ হাসানুজ্জামান জানান, করোনাকালে রেলওয়ের পরিষেবা তথা যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরা অগাধ পরিশ্রম করেছেন।
আর এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি কোচ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। একটি সুন্দর টিমওয়ার্কের জন্য এটি সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম বলেন, জনবলের সংকট প্রকট থাকলেও শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কোচ মেরামত করেছেন।