৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময়সীমা বাড়ান

বর্তমানে বিশ্বে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তবে বাংলাদেশে মনে হয় এই চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। ঘর থেকে বের হলে বোঝা যাচ্ছে না এখন কি মহামারি চলছে নাকি আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন! আগের মতোই হাট-বাজারগুলোতে মানুষের কোলাহল, শপিংমলগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, সড়কগুলোতে চালক-যাত্রীর হাঁকডাক ও ঠাসাঠাসি। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে অর্থনীতির চাকা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর পর্যটন স্থানগুলোতে মানুষ আর মানুষ। শুধু স্বাভাবিক হচ্ছে না সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আটকে থাকা চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই মহামারিতেও থেমে নেই ক্লাস পরীক্ষা কার্যক্রম। তাই এখন পরীক্ষা শেষ করে চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই এগিয়ে আছে। কিন্তু গত দশ মাস ধরে আটকে আছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা। যদিও থেমে নেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বয়স বৃদ্ধি। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান একটি বছর বিলীন হওয়ার পথে। তার ওপর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, বিসিএসের মতো বড় আকারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মহামারি না হলে হয়তো অনেকে এই নিয়োগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটু আগেভাগেই নিজেদের এবং পরিবারের ভাগ্যকে বদলে নিতে পারত। কিন্তু তারা এটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যা তাদের মধ্যে তৈরি করছে পিছিয়ে থাকার হতাশা। তাই সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত অনার্স চতুর্থ বর্ষের আটকে থাকা পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। আর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরাও যাতে ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করতে পারে তার জন্য পিএসসির উচিত এই দুর্দিনের কথা বিবেচনা করে বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো।

মুহাম্মদ আবু হানিফ

চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম