কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার দুই ছাত্রের পাঁচ দিন ও দুই শিক্ষকের চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এনামুল হক এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন কুষ্টিয়ার জুগিয়া পশ্চিমপাড়া ইবনে মাসউদ (র.) মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আল আমিন (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২৬) এবং একই মাদ্রাসার ছাত্র মো. আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও মো. সবুজ ইসলাম নাহিদ (২০)।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, কঠোর নিরাপত্তায় ধৃত চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আদালত থেকে আসামিদের নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে। এর আগে সাত ডিসেম্বর গ্রেফতারকৃত দুই মাদ্রাসা ছাত্রের ১০ দিন ও দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় রিমান্ড প্রার্থনা করা হলে বিচারক শুনানি শেষে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া এ অপরাধ সংঘটনের ইন্ধনদাতা ও কুশীলব কারা ছিল তাও বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও তদন্তপূর্বক পুলিশ মাদ্রাসার দুই শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে।