প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে গণভবন হতে সংযুক্ত হয়ে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, একনেক সভায় কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য এবং যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। ৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার প্রকল্পটির ব্যয় আরো ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১০৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানতে চেয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ার কারণ কী? কৃষিমন্ত্রী ছুটিতে থাকায় সভায় উপস্থিত ছিলেন না। কৃষিসচিব নতুন হওয়ায় তিনিও এর কারণ জানাতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন প্রকল্প পরিচালক কে? একনেক সভায় প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত থাকেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এত ছোট প্রকল্প এতদিন লাগার কথা নয়। সব প্রকল্প সময়মতো শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া প্রকল্প শেষ করতে কেন দেরি হয় সে বিষয়গুলো অনুসন্ধানও করতে বলেছেন তিনি।
একনেক সভায় দুটি নতুন ও সংশোধিত আকারে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং সংশোধিত প্রকল্পের বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে ব্যয় করা হবে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যয় বেড়েছে ৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১০৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ একবছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ প্রকল্পে এতদিন লাগা উচিত হয়নি। এটা পুরোনো সড়ক, প্রশস্ত করতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগল? আবার সংশোধন, আবার টাকা বাড়ানো, এ ধারা বন্ধ করুন। প্রকল্প যে সময়ে নেবেন, সে সময়ে শেষ হওয়া উচিত। সময় আরো বাড়িয়ে নিয়ে আসেন, ব্যয়ও বাড়িয়ে নিয়ে আসেন, এটা হতে পারে না। এখন ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়েছেন, এটাই শেষ। এরপর আর বাড়ানো হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের আরো জানান, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু নির্মিত হয়ে গেলে ঐ অঞ্চলে নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। যানবাহন চলাচল বাড়বে। সে জন্য দক্ষিণাঞ্চলের পুরো এলাকার মাস্টার প্ল্যান করুন। ঐ অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্গঠন, পুনর্নির্মাণের ও শক্তিশালী করার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।
সভায় ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করতে হবে। এটি হবে দ্বিতল সড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে নয়। সভায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুন্সীগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অধিকতর উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনসমূহ ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে। এর বড় অংশ উড়াল সড়ক হবে।