দুদককে কাগুজে বাঘের পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে :টিআইবি

করোনা মহামারির আর্থসামাজিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের প্রাক্কালে এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে টিআইবি। ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চাই দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা :দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও’—এই প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বছর দিবসটি উদ্যাপন করছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ?রাজনৈতিক, ব্যাবসায়িক অন্য যে কোনোভাবে ক্ষমতাবানেরা বিচারহীনতা উপোভোগ করছেন। দুদক এক্ষেত্রে কার্যত ক্ষমতার বি-টিমের ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতি দমন ও এর কার্যকর প্রতিরোধে দুদককে কাগুজে বাঘের পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যেও সব জায়গায় দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা থাকলেও এই ঘোষণার বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে শুধু চুনোপুঁটিদের টানাটানিতে। দুর্নীতির মূল কারিগর যারা পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে, তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও আর্থিক মূূল্য কী হতে পারে, সেটা চিন্তা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়। একজন ছাত্রনেতার হাজার কোটি টাকা পাচার করার খবর দিয়েছে গণমাধ্যম। আরো ওপরের দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবস্থা তো কল্পনারও বাইরে। অথচ তাদের কারো বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থার খবর তো আমরা কখনো দেখিনি!

সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে আরো বলেছে, সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি, গণমাধ্যম ও দেশবাসীর স্বাধীন মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্র্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কানাডার বেগমপাড়ায় অর্থ পাচারসংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডা সরকারের কাছে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য চাইবে।