রায়পুরে সরকারি খাল দখল করে ইমারত নির্মাণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনের সরকারি সিইপি খালের প্রায় ১৫ শতক জায়গা অবৈধভাবে এলাকার প্রভাবশালী তিন ব্যক্তি ভরাট করে ইমারত নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভা ও ভূমি অফিসের অনুমতি না নিয়ে গত ১০ দিন ধরে স্থানীয় সুমন, সোহেল ও অরিফকে পৌর সভা ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে তাদের ডাকা হলেও তারা যাননি। এতে পৌরসভার প্রকৌশলী জুলফিকার প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর সভার ওই খাল দিয়ে বর্ষাকালে নৌকায় করে মালামাল আনা-নেওয়া হতো। ১ নম্বর খতিয়ানে ওই খালটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর দেনাযেতপুর এলাকার আব্দুল গনি হাজী বাড়ির প্রভাবশালী সুমন, সোহেল ও অরিফ গত ১০ দিন ধরে তাদের বাড়ির পাশে সিআইপি খাল দখল করে ইমারত নির্মাণ করছেন। নির্মাণ কাজে এলাকাবাসী বাধা দিলে প্রভাবশালী ওই তিন ব্যক্তির অনুগত লোকজন দিয়ে এ বিষয় কোনো শব্দ না করতে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। এতে ভয়ে এলাকার কোনো ব্যক্তি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইতিপূর্বে একই এলাকার আলী আহম্মদ, আবুল খায়ৈর, নুরুল আমিন, রোকেয়া বেগম, মো. বাবলু ও সিরাজুল ইসলাম নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা য়ায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশি জানান, খালটি ভরাট করার সময় প্রথমে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এসে ওই জনকেই বাধা দেন। কয়েক দিন পর তারা আবার মাটি ভরাট শুরু করেন। তখন নেতারা আর কিছু বলেননি।

মো. সোহেল ও তার ভাই ব্যবসায়ী মো. আরিফ হোসেন বলেন, সিআইপি খালটি আমাদের জায়গার মধ্যে পড়েছে। আমরা আমাদের অংশের মধ্যে ইমারত নির্মাণ করছি।৬ এলাকার কয়েকজন আমাদের শত্রুতামী করে হয়রানী করছেন।

রায়পুর পৌরসভার প্রকৌশলী  জুলফিকার হোসেন বলেন, পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে খালের ওপর ইমারত নির্মানের সংবাদ পেয়ে লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে কার্যালয় আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও এ বিষয় কিছুই বলেননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রায়পুর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অনুমতি না নিয়ে খালের ওপর ইমারত নির্মাণের সংবাদ পেয়েছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিন চৌধুরী জানান, পৌর ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি জায়গা থেকে ইমারত নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/কেকে