গাইবান্ধার আসন্ন পলাশবাড়ী পৌরসভার নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও ভোট চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। নিজ ভাগনি জামাতার পক্ষ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পানির বোতল প্রতীকের প্রার্থী ফজলে রাব্বি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে ফজলে রাব্বি উল্লেখ করেন, ‘পলাশবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতির ভাগনি জামাই নির্বাচন করছেন। এমপি মহোদয় প্রভাব খাটিয়ে তার ভাগনি জামাইয়ের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন, এতে সাধারণ ভোটাররা ইতস্তত বোধ করছেন। এমপি মহোদয় নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলে তার ভাগনি জামাইকে জেতানোর জন্য ভোটারদের মাঝে এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব খাটাতে পারে।’
অভিযোগে তিনি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় এমপির ভাগনি জামাই এবং ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিপুল বলেন, উনি যেসব অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। এমপি মহোদয়ের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। নির্বাচনকে ঘিরে আমি উনার বাড়িতেও যাইনি। আর উনিও আমার পক্ষে কোথাও কখনো ভোট চাননি। এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। আমি আমার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছি। এতে এমপি মহোদয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।
তিনি আরো বলেন, তারা খালি অভিযোগ করলেই তো হবে না, এর যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে। এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে থাকলে তার (ফজলে রাব্বি) নামে মানহানির মামলা করব।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত ০৩ নভেম্বর পলাশবাড়ী পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ নভেম্বর ২০২০। মনোনয়ন যাচাই-বাচাইয়ের শেষ দিন ছিলো ১৭ নভেম্বর, প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ নভেম্বর, ভোটগ্রহণ ১০ ডিসেম্বর। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৬০২, এর মধ্যে পুরুষ ১৫ হাজার ৩৩৪ ও নারী ভোটার ১৬ হাজার ২৬৮ জন।
ইত্তেফাক/এএএম