‘ইউটিউবের ভিউকে গানের মান নির্ধারক বলতে চাই না’

গীতিকার আহমেদ রিজভী। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান লিখেছেন তিনি। তিনিই দেশের অন্যতম গীতিকার, যিনি প্রায় তিন প্রজন্ম ধরে একইভাবে গান লিখে চলেছেন। সেই প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশে গীতিকারদের অবস্থা ও গানের মান নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—

এখন বেশ কয়েকটি গান লেখা নিয়ে ব্যস্ত আছি। আসিফ আকবর, ইমরান ও নোবেলের জন্য গান লিখছি। এগুলোই এখনকার ব্যস্ততা।

অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার আপনি। এখনো গান লিখছেন। অডিও বাজার থেকে আজকের ডিজিটাল বাজার। পরিবর্তনটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আগে তো ফিতা বা সিডিতে গান বাজতো, আমরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে শুনতাম। সবার মধ্যে একাত্মতা ছিল। সেই বিষয়গুলো এখন নেই। ইউটিউব এখন জনপ্রিয়তা মাপার উপায়। তবে আমি ইউটিউবের ভিউকে গানের মান নির্ধারক বলতে চাই না। কারণ এখানে অনেক ভালো শিল্পীর চেয়ে হিরো আলমের গান বেশি ভিউ হয়। তাহলে শিল্পের মান কী দেখে নির্ধারিত হবে! আমাদের দেশের মানুষের অবসর সময় বেশি। আড্ডাবাজি বেশি হয়। তাই যে যা ইচ্ছা করতে পারেন। ইউটিউবে পোস্ট করেন। এগুলো থেকে বের হতে হবে। যে কাজটি করি সেটি যদি মনোযোগ দিয়ে করি তাহলে ভালো কিছুই হবে। পরিবর্তন সময়ের সঙ্গে আসবে। সেটির ব্যবহার সঠিকভাবে করতে হবে।

এদেশে গীতিকাররা জনপ্রিয়তা থেকে পিছিয়ে আছেন। গুটিকতক গীতিকারই অতিপ্রচার পায়। অথচ আপনারা কত কালজয়ী গান লিখেছেন! এর কারণ কী মনে করেন?

এর মূল কারণ প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া। তাদের দায়িত্বেও জায়গা থেকে গীতিকারদের প্রচারণার গুরুত্ব কেউ দেয় না। সেই জায়গাটা তো তৈরি করতে হবে। আজকে বলিউডের কোরিওগ্রাফারের নামও আমরা জানি। সেটি কীভাবে! কারণ তারা শিল্পীদের যোগ্য সম্মান দেন। বলিউডে জাভেদ আখতারকে আমরা চিনি। কিন্তু আমাদের রফিকুজ্জামানকে অনেকেই চিনি না। সেই দায় কাদের? দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। আমাদের সম্পদের যত্ন আমাদেরই নিতে হবে। শিল্পী মমতাজকে আমি হানিফ সংকেতের কাছে নিয়ে গেছি। এরপর আমাদের কয়েকজনের গান দিয়ে তিনি আধুনিক ফোকগান শুরু করেন। কিন্তু আমাকে ক’জন চেনেন।

নতুনদের সঙ্গে গানের অভিজ্ঞতাটা কেমন?

ভালো কাজ অনেকে করছেন। নতুন অনেকের সঙ্গে আমি কাজ করছি। যুগের পরিবর্তনটা থাকবে। তবে সেটি ভালোর দিকে যাবে এটা বিশ্বাস করি।