ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলাগুলোতে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, বেগুন, শিম ও মুলা পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও চাষির মাথায় হাত। খেত থেকে সবজি তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার ৫০৫ হেক্টরে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এখনো চাষ চলছে। হাটবাজারগুলো শীতকালীন সবজিতে ভরপুর। গতকাল বুধবার ঝিনাইদহ সবজির হাটে পাইকারি প্রতি কেজি ফুলকপি চার-পাঁচ টাকা, বাঁধাকপি পাঁচ-ছয় টাকা, ওলকপি তিন-চার টাকা, বেগুন পাঁচ টাকা, শিম সাত টাকা, পালংশাক ৮-১০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ছয় টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের চাষি ইছাহাক আলী জানান, আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। ১০ মণ কপি ৬০০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে চার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। খেত থেকে কপি তুলতে কামলা খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা। শৈলকুপা উপজেলার আনিপুর গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘায় ফুলকপি চাষ করেছেন। ২৭০ পিস কপি ঝিনাইদহ হাটে এনে চার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের চাষি হানেফ আলী বলেন, পাঁচ মণ বেগুন ৪০০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে চার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের সবজিচাষি জিয়াউর রহমান বলেন, তাদের এলাকায় সবজির ক্রেতা মিলছে না। ফুলকপি তিন-চার টাকা, ওলকপি দুই-তিন টাকা কেজি ও বাঁধাকপি ছয়-সাত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের সবজিচাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল বুধবার দেশের অন্যতম প্রধান সবজির হাট বারীনগরে ফুলকপি প্রতি কেজি পাঁচ টাকা, ওলকপি এক টাকা-দেড় টাকা, শিম সাত টাকা, বেগুন চার-পাঁচ টাকা, বরবটি সাত-আট টাকা দরে বিক্রি হয়। দেড় কেজি সাইজের প্রতি পিস বাঁধাকপি পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হয়। এক ভ্যান মুলা (১০ মণ ) বিক্রি হয় ৪০০ টাকাতে। তিনি জানান, আড়াই বিঘা জমি ৫০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে মুলা চাষ করেন। কামলা খরচ করে খেত থেকে মুলা তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে বিক্রির পর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এজন্য খেত নষ্ট করে দিয়েছেন। তাতে মোটা টাকা লোকসান হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, সব ধরনের শীতকালীন সবজির ব্যাপক উত্পাদন হয়েছে। এ কারণে হাটবাজারে আমদানি বাড়ায় দাম পড়ে গেছে। এতে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।