প্রতিনিয়ত কর্তৃত্ববাদী শক্তি সামরিক হুমকি দিচ্ছে

সিকিউরিটি ফোরামের অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

 রয়টার্স

তাইওয়ানের কাছে ২৮ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্র বিক্রির মুখে তাইওয়ান প্রতিনিয়তই ‘কর্তৃত্ববাদী শক্তির’ কাছ থেকে সামরিক হুমকি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। ৃ

তাইওয়ানকে চীন ‘নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে যারা আবার একত্রিত হবে’। তাইওয়ানের ?কাছে তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। এর বর্ণনাতীত পালটা জবাবের হুমকিও দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের গণতন্ত্রের দাবিতে আরো জোর সমর্থন জানিয়েছে। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রির মোট ১১টি প্যাকেজ সই হয়েছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাইওয়ানের কাছে নতুন একটি ‘ফিল্ড ইনফরমেশন কমিউনিকেশন্স সিস্টেম’ বিক্রির বিষয়টিও কংগ্রেসকে জানিয়েছে। এ বছর তাইওয়ানের কাছে ?যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্র বিক্রি করেছে তার অর্থমূল্য ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। স্বাভাবিকভাবেই চীন এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং বেইজিং-ওয়াশিংটন উত্তেজনার পারদ আরো চড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। সেই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছেও চীন সামরিক তত্পরতা বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন রাজধানী তাইপেতে সিকিউরিটি ফোরামের ?এক অনুষ্ঠানে সামরিক শক্তি বাড়তে থাকা দক্ষিণ চীন সাগরসহ ঐ অঞ্চলে হুমকির আবহের কথা বলেন। যেখানে চীন কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে বিমান ও নৌশক্তি বাড়াচ্ছে এবং পুরো এলাকাকেই নিজেদের বলে দাবি করছে। সাই ইং-ওয়েন বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী শক্তি অবিরাম বিদ্যমান নিয়মনীতির ভিত্তিতে বিরাজমান শৃঙ্খলা ভঙের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাইওয়ান প্রতিনিয়তই এ ধরনের সামরিক হুমকি পাচ্ছে।’ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই চীনের নাম বলেননি। তবে সম্প্রতি কয়েকমাসে তাইওয়ান কয়েকবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জন্য চীনকে দোষারোপ করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অস্ত্র বিক্রিকে তাইপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হিসাবেই দেখছে এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অস্ত্র বিক্রির নিন্দা করে যুক্তরাষ্ট্রকে তা বন্ধ করতে বলেছে। অন্যথায়, এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের সাহায্য করছে নাকি ক্ষতি করছে সেই পার্থক্য তারা (তাইওয়ান) বুঝতে পারবে বলেই আমি আশা করছি।’