চলুন, সময়কে কাজে লাগাই

বই পড়ার মধ্য দিয়ে মনশ্চক্ষু খুলে যায়। আমাদের মধ্যে এমন কিছু ভালো গুণ আছে, যে গুণের প্রসারণ ঘটিয়ে কর্মে পরিণত করতে পারলে ব্যক্তি, সমাজ, তথা একটি জাতির বিশ্বে ‘জাতি’ হিসেবে মর্যাদাবোধ আরো অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তবে দুঃখের বিষয় এই যে, সেই গুণ আজও অন্ধকারেই লুকিয়ে আছে। তার চারিপাশ ঘোর অমানিশায় বেষ্টিত। তাই সেখানে আলো জ্বালাতে হলে এবং সে আলোয় নিজেকে ও অন্যকে আলোকিত করতে হলে প্রয়োজন বই পড়া, বই পড়া এবং বই পড়া।  বই মানুষের এমন এক বন্ধু, যার সঙ্গে পার্থিব জগতের কোনো বস্তুর তুলনা চলে না। ইহজাগতিক সমস্ত সম্পদ নষ্ট হয়ে গেলেও, বই থেকে আহরিত জ্ঞানের প্রজ্বালিত আলো কখনোই ম্রিয়মাণ হবে না বরং সে আলোর প্রদীপ হূদয়ে চিরকাল আলো ছড়াবে।  আমরা যদি আমাদের ভাবনার জগেক প্রশ্নবিদ্ধ করি, তাহলে সহজেই বুঝতে পারব যারা বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী করেছিলেন তারা আজ সফলতা, মর্যাদা ও অমরত্বের শীর্ষে পৌঁছেছেন। বই এমন এক বন্ধু যে, প্রতি মুহূর্তে দেহ ও মনে শক্তি জোগায়, ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, করে তোলে আত্মপ্রত্যয়ী। বইয়ের শক্তি মানুষকে চেনায় সহজ ও কঠিন পৃথিবী। সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগায়। এই অর্জিত শক্তি নিতান্তই নিজস্ব।

এখন অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে, বই কেন পড়ব? বই কোন কোন দিক থেকে আমাদের সহায়তা করে? উত্তরে আমি বলতে পারি—এমন কোনো দিক নেই, এমন কোনো প্রশ্ন নেই, যার উত্তর বই দিতে পারে না। এছাড়াও যে বিষয়গুলোর সম্প্রসারণ ঘটাতে বই মোক্ষম হাতিয়ার, এবার সে বিষয়গুলো তুলে ধরব—Åবই চিন্তা শক্তিকে জাগ্রত করে। একটি বই শুধু তথ্য প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নতুন করে চিন্তা করাতে শেখায়। ভাবতে শেখায় ব্যক্তি, সমাজ, জাতি তথা জগত্ সম্পর্কে। Åজ্ঞানের ক্ষেত্রকে করে প্রসারিত। গুরুজনেরা বলেন যত বেশি বই পড়া যাবে, ততই জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। বই সবসময় মানুষকে যথার্থ জ্ঞানী করে তোলে আর জ্ঞান মানুষকে করে সমৃদ্ধ। Åশরীর ও মনকে করে তোলে সতেজ ও কর্মচঞ্চল। ভালো শরীর অনেকাংশে মন ভালো থাকার ওপর নির্ভর করে। আর এক্ষেত্রে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। Åকল্পনাশক্তি জাগ্রত করার ক্ষেত্রে বই একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। বইয়ের ভেতরে এমন এক জগতের বর্ণনা থাকে, বই পড়ার মধ্য দিয়ে সেই জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হয় পাঠকের। ফলে পাঠকের নতুন চরিত্র, জগত্ সম্পর্কে নতুন ধারণা জন্মে, যা কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের দিক থেকে আমরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে, তার অন্যতম কারণ বই পড়ার অভ্যাস এখনো আমাদের গড়ে ওঠে নাই। মরা গাছের মতো দাঁড়িয়ে আছি আমরা, প্রবল বাতাসে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই মরা গাছকে পাতা, ফুলে ফলে সাজিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজন যত্নের। ঠিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এমনটাই। ব্যক্তি যদি নিজেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে পারে, তাহলে সে আলোর জাতি অগ্রযাত্রায় পথকে সুগম করতে পারবে। দীর্ঘ করোনাকালীন সংকটে আমরা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে চিন্তিত, কি হবে আমাদের? বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু আমরা যদি এই চিন্তাকে কেন্দ্র করে মূল্যবান সময়কে নষ্ট করি তাহলে বড় এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। দীর্ঘ এই ছুটিতে পড়াশোনা থেকে অনেকেই দূরে আছি, চলুন সময়কে কাজে লাগাই, বই পড়ে জ্ঞানার্জনে নিজেকে প্রস্তুত করি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, বাঙালি জাতি হিসেবে আমি, আমরা গর্বিত। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে গর্বিত এক ইতিহাস আছে। এই বিষয়গুলোকে স্বীয় মর্যাদায় অক্ষুণ্ন রাখতে নিজেকে সার্বিক দিক থেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে, নিজের ইতিহাসকে জানতে, নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করতে এবং জ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন করতে বই পড়ার মানসিকতা তৈরি ও চর্চায় নিজেকে মনোনিবেশ করি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।