ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতির মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারণা করে ওরা ভিআইপি প্রতারক। প্রথমে গ্রামীণফোনের নাবিস্কো মোড় কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার অনিক মাহমুদ রুবেল গ্রাহকের গোপন তথ্য বিশেষ করে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা সরবরাহ করে। এরপর শুরু হয় প্রতারণা। কখনো সমাজকর্মী, কখনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মী, কখনো চাকরিপ্রার্থী কিংবা প্রেমের অভিনয় দিয়ে শুরু করে ফোনালাপ। কখনো প্রয়োজন দেখিয়ে সাক্ষাত্। সামান্য হূদ্যতা হয়ে গেলে তো কথাই নেই। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বা গোপন কথার রেকর্ড জমায় মুঠোফোনে। এরপর শুরু হয় ব্লাকমেইল। কেউ ২ লাখ, কেউবা ২০ লাখ টাকা দিয়ে নিস্তার পান।
এভাবে গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গ্রামীণফোনের কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার রুবেল মাহমুদ অনিক, পারভীন আক্তার নূপুর, তার বড় বোন শেফালী বেগম ও মতিঝিলের পারফেক্ট ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারী শামসুদ্দোহা খান ওরফে বাবু।
গ্রেফতারকৃত অনিক মাহমুদ রুবেল ২০-২৫ জনকে ব্লাকমেইল করার কথা স্বীকার করেছেন। এই চক্রের শিকারের মধ্যে আছেন চিকিত্সক, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। পাশাপাশি সিএনজি চালক, দর্জি, ফলমূল বিক্রেতার মতো পেশার লোকজনও আছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, দৃশ্যমান কোনো পেশা না থাকলেও সপ্তম শ্রেণি পাশ নূপুর থাকেন গুলশানের নিকেতনে। তার ফ্ল্যাট ভাড়া মাসে লাখ টাকা। তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেইল করেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল ও বাড্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। আইনজীবী পরিচয়দানকারী ইসা নামে এই চক্রের এক সদস্য এখনো পলাতক।
টার্গেট করা ব্যক্তির মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে নূপুরের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে ঐসব ব্যক্তিকে হুমকি দিতে থাকে। এমনকি তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে এমন কথা পরিবারের সদস্যদের জানানোর হুমকি দেওয়া হয়। নূপুরের বড় বোন শেফালী টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফোন করে মামলার হুমকি দেয়। অনেকেই সম্মানের ভয়ে দাবিকৃত টাকা দিয়ে দেন। তবে কেউ দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ইসা নামে অপর এক সদস্য ঐ ব্যক্তিকে ফোন করে মিথ্যা ও বানোয়াট ধর্ষণ মামলা বা নারী নির্যাতন মামলা করার হুমকি দেয়। এমনকি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য নামকরা চিকিত্সকদের কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশনে স্বামীর নাম অপশনে ওই ব্যক্তির (টার্গেট) নাম লিখে আনে নূপুর। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করা নূপুরের বোন শেফালী চাঁদনী চক মার্কেটে স্কার্ফ, হিজাব ও বোরকার ব্যবসা করেন।