নেত্রকোনায় ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন (খনন যন্ত্র) দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন আহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান ম্যাজিস্ট্রেট। তবে হামলাকারীরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে। আহতদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ইউএনও ও ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় অন্তত ৫০টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলা প্রশাসন থেকে সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি বালুমহাল প্রায় ৫৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর ঘাট বিজিয়পুর-ভবানীপুর ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকায় ইজারা নেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক এমপি মোস্তাক আহমদে রুহী। তবে শর্ত ছিল যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা যাবে না। কিন্তু ঐ ঘাটে বালু ব্যবসায়ীরা সহস্রাধিক খনন যন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। এতে এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়ে। 

গতকাল দুপুরে ১ নম্বর ঘাটের দেবথৈল এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণ চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত অবধৈভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ড্রেজার মেশিন জব্দ করার সময় সন্ত্রাসীরা আদালত পরিচালনাকারীদের ওপর হামলা চালালে পুলিশের এসআই রোকন উদ্দিন, সদস্য      মো. রুবেল মিয়া, মো. খলিল, এসি ল্যান্ড কার্যালয়ের দুই অফিস সহকারী মো. এরশাদুল ইসলাম ও মো. নজরুল ইসলাম আহত হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম ও সহকারী কমিশনার নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সোমেশ্বেরী নদীর ১ নম্বর বালুমহালে পরিবেশের তোয়াক্কা না করে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। বিষয়টি  জানার পর জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমানের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় আদালতের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ী ও তাদের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।