ডিসেম্বরেই স্কুলে ভর্তি ও লটারি শেষ করার প্রস্তাব

ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি লটারি শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। সেক্ষেত্রে ১৫ ডিসেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব রেখেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবিত ভর্তি নীতিমালা। শিগিগরই তা চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা মহানগরীর ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণি রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭টি। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসন রয়েছে প্রায় ১২ হাজার। তবে প্রথম শ্রেণিতে আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০০।

এবার করোনার কারণে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত ভর্তি নীতিমালায়, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে ১২দিন আবেদনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী ২৯ বা ৩০ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠানের প্রস্তাবিত তারিখ বলা হয়েছে। তবে জানুয়ারির প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুলে ভর্তি হওয়া যাবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই আবেদন ফির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ১১৫ টাকা ও বেসরকারি স্কুলে ১৫০ টাকা। অনলাইন ভর্তি আবেদনে কারিগরি সহায়তা দিবে রাষ্ট্রায়ত্ত ফোন কোম্পানি টেলিটক। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালার সঙ্গে মিল রেখেই বেসরকারি বিদ্যালয় ভর্তি নীতিমালাও তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দুএকদিন আগে-পরে তারাও তাদের আবেদন গ্রহণ ও লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

এবারও রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে ক, খ ও গ নামে তিনটি পৃথক গুচ্ছে ভাগ করা হচ্ছে। আগে শিক্ষার্থীরা প্রতিটি গুচ্ছ থেকে একটি মাত্র স্কুল পছন্দ করার সুযোগ পেলেও এবার পাঁচটি স্কুল পছন্দ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া ক্যাচমেন্ট এরিয়া (এলাকা কোটা) ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে ৩২১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও মানসম্পন্ন স্কুল রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি। ফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আগ্রহ ঐ স্কুলগুলোকে ঘিরে। বাকি স্কুলগুলোতে আসন খালি থাকলেও অভিভাবকদের আগ্রহ খুব একটা নেই।

এছাড়াও ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ৩০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, খেলার মাঠ, শিক্ষকসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার পরও সেখানে অভিভাবকদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। মূলত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অন্য কোনো স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পেয়েই এসব স্কুলে ভর্তি হয়। এসব স্কুলে সারাবছরই শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকে। তবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে প্রতি বছর বড় অংশের শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এবার তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছেন না তারা।