যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে ১০ কোটি করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করবেন। তিনি বলেন, তার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম মাসগুলোতে হয়তো মহামারি শেষ হয়ে যাবে না। কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের গতিপথ পরিবর্তন করে দেবেন তিনি। এদিকে ধনী দেশগুলো টিকা মজুত করছে বলে অভিযোগ ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স নামের একটি সংস্থার। খবর বিবিসির
বাইডেন কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডেলাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বেসেরাকে তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং রোশেল ওয়ালেনস্কিকে জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্রের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেন। বাইডেন বলেন, ‘আমার প্রথম ১০০ দিনে কোভিড-১৯ ভাইরাস শেষ হয়ে যাবে না। সেটা আমি ওয়াদা করতে পারব না। আমরা হঠাত্ করেই এই বিপদে জড়াইনি। আর তাই হঠাত্ করেই উঠেও আসা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিনে আমরা রোগের গতিপথ বদলে দিতে পারি এবং আরো ভালো কিছুর জন্য আমেরিকার জীবন পালটে দিতে পারি।’ তিনি সতর্ক করেন বলেন, কংগ্রেস যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সমাপ্তি টেনে জরুরি ভিত্তিতে তহবিলের ব্যবস্থা না করে, তাহলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সব প্রচেষ্টা মন্থর আর আটকে যেতে পারে। তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে নেওয়াটাও অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ এই ভ্যাকসিন কর্মসূচি কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তেমন কিছু জানাননি বাইডেন।
হোয়াইট হাউজে কী ঘটেছে?
টিকার অনুমোদন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলছে যে এটা অলৌকিক ঘটনা আর আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি আমেরিকান ভ্যাকসিন পেতে চায় এবং আমরা মনে করি বসন্ত নাগাদ আমরা এমন একটি অবস্থানে থাকব, যেটা হয়তো কিছুদিন আগ পর্যন্ত কেউ বিশ্বাসও করতে পারেনি। জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ২৪ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন, যা আমেরিকানরাই যাতে প্রথমে ভ্যাকসিন পায় সেটা নিশ্চিত করবে। প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডোজ টিকা কিনতে ফাইজার বা বায়োএনটেকের সঙ্গে চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ফাইজার বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন, এর চেয়ে বেশি ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব কয়েকবার নাকচ করে দেওয়া হয়েছে এবং জুনের আগ পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এদিকে বিশ্ব জুড়ে ন্যায্য ও সুষ্ঠুভাবে টিকা সরবরাহে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাকসিন সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জোট কোভ্যাক্স ৯২টি নিম্ন আয়ের দেশে ৭০ কোটি ডোজ টিকা পাঠানোর চুক্তিও করেছে। কিন্তু এত সব পরিকল্পনার পরও বিশ্বব্যাপী ন্যায্য টিকা বিতরণ সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফাম, গ্লোবাল জাস্টিস নাওসহ বিভিন্ন সংস্থার নেটওয়ার্ক পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে কোভিডের সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং ২ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ মারা গেছে।