মৌসুমি

জুলহাস মিয়ার পিঠা

শীতের আবহাওয়া এরই মধ্যে বাংলায় প্রবেশ করেছে। গ্রামবাংলার রাস্তায় অথবা বাজারের অলিগলিতে এখন শুধু পিঠার ঘ্রাণ!

ভাপা ও চিতই—শীতের পরিচিত এই পিঠাগুলো বানানোর দৃশ্য আগের মতো ঘরে ঘরে খুব কমই দেখা যায়। সে কারণে দোকানের পিঠাই এখন একমাত্র ভরসা। শীত না আসতেই শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মোড়ে-মোড়ে গড়ে উঠেছে খোলা আকাশের নিচে বা ভ্যান গাড়ির ওপরে পিঠার দোকান। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠার গরম আর সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে। সরষে বা ধনে পাতা বাটা অথবা শুঁটকির ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়।

নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারের পিঠা বিক্রেতা জুলহাস মিয়া বলেন, ‘শীত এলেই পিঠা বিক্রি করি। ১৭ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছি। পিঠা বিক্রি করা এখন আমাদের নেশা হয়ে গেছে।’ চালের গুঁড়া দিয়ে জলীয় বাষ্পের আঁচে তৈরি করেন ভাপা পিঠা। আর মিষ্টি করার জন্য দেওয়া হয় গুড়। স্বাদ বাড়াতে দেন নারকেলের শাঁস। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৩০টি পিঠা বিক্রি হয়ে থাকে। চিতই পিঠার সঙ্গে আছে সরিষার ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা। প্রতিটি পিঠার দাম মাত্র ৫ টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা আসে। চাল, গুড়, নারিকেল, ভর্তা ও আনুষাঙ্গিক খরচ সব মিলিয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো ব্যয় হয়। পিঠা বিক্রি করেই সংসারের খরচ জোগান বলে জানালেন জুলহাস মিয়া।

মো. সুখন