ছোটবেলা থেকেই যে প্রশ্নটি সব থেকে বেশি শুনেছি, সেটি হলো বড়ো হয়ে তুমি কী হতে চাও? প্রথম প্রথম এই প্রশ্নটাই বুঝতাম না এবং একটু বড়ো হলে যখন বুঝতে শুরু করি, তখন কখনো বলেছি—ডাক্তার হব, কখনো বলেছি ইঞ্জিনিয়ার হব। এই তালিকাটা দিন দিন বদলাতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি খেয়াঘাটের মাঝি হতে চেয়েছিলেন! আমার অবশ্য সেরকম কোনো ইচ্ছে ছিল না কখনো। খুব করে চাইতাম গেমার হব। আবার এ সময়ে অভিনয় করছি, মডেলিং করছি, ছবি আঁকছি। আমার সামনে অনেক সম্ভাবনা। আমি চেষ্টা করলে যে কোনোটিই হতে পারব। আমি ইস্টওয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ি। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে তারা আমাকে রাজপুত্তুরের মতো আগলে রাখেন। মা ব্যবসায়ী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার। আর বাবা তো রাতদিন চোর-ডাকাতের পেছনে ছুটে বেড়ানো এক পুলিশ অফিসার। আমার বন্ধুরা বলে, তুই কি আম্মুর মতো বিজনেসম্যান হবি নাকি বাবার মতো পুলিশ অফিসার হবি? আমি কিন্তু খুব বেশি বড়ো হইনি। কিন্তু পত্রিকা খুললেই আমার সব ইচ্ছে মরে যায়। পুলিশ, ব্যবসায়ী, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার কোনোটাই হতে ইচ্ছে করে না। এসব পেশায় অসংখ্য মানুষ আছেন যারা দিনরাত পরিশ্রম করে সমাজের সেবা করছেন। আমার বাবাও তাদের মধ্যে একজন—এটা আমি মন থেকেই বিশ্বাস করি। পত্রিকায় পড়েছি এদেশে কারো কারো গাড়ির ড্রাইভারও কোটি কোটি টাকার মালিক। আমার বাবার অত টাকা নেই। আমার বিশ্বাস, যারা ভালো চাকরি করেও সাধারণভাবে দিনযাপন করেন তারা আসলেই ভালো। ঠিক যেন সিনেমার বিখ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের মতো। তাদের সারাজীবন কাটে অতি সাধারণ স্কুল মাস্টারদের মতো। আচ্ছা, আমি কি তবে স্কুল মাস্টার হব? কিন্তু অনেক স্কুল মাস্টারও তো জোর করে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। আমেরিকাতে আমার একটা বন্ধু থাকে, তার নাম ফাতিহা আয়াত। তার ভাবনার সাথে আমার একটি ভাবনার খুব মিল আছে। বড়ো হয়ে যা-ই হই না কেন সবার আগে ভালো মানুষ হতে চাই। ভালো মানুষ না হলে কোনোকিছুতেই উপকার হবে না। ভালো মানুষ না হলে নিজ নিজ পেশা থেকেই নিজের উন্নতির কথা ভেবে অন্যদের ক্ষতি করা হবে—এখন অনেকে যেমন করে। ওষুধ, খাবার সব কিছুতেই ভেজাল। দুর্নীতি, ঘুষ এগুলো দেখে খুব খারাপ লাগে। একজীবনে যা-ই হই না কেন ভালো মানুষ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একজন ভালো গেমার, ভালো অভিনেতার পাশাপাশি আমি একজন ভালো মানুষ হব। কুসুম কুমারী দাসের সেই ‘কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ ছেলেটি হতে আমার খুব ইচ্ছে।