ফুটবল দুনিয়ায় একের পর এক মৃত্যু সংবাদ আসছে। সপ্তাহ দুই আগে আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনা কাঁদিয়ে গেলেন। বুধবার মারা গেলেন আর্জেন্টাইন সাবেক কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা। এক দিন না যেতেই আবার মৃত্যুর সংবাদ ফুটবল দুনিয়াকে শোকে ভাসাল। এবার চলে গেলেন আরেক ৮২র স্পেন বিশ্বকাপ জয়ী ইতালির সাবেক তারকা পাওলো রসি (৬৪)। অনেক দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। ফুটবল ছেড়ে দিয়ে পাওলো রসি ইতালির একটি টিভিতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। সেই টিভি প্রথম রসির খবরটি প্রকাশ করে। স্ত্রী ফেডরিকা ক্যাপেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই জনের একটি ছবি প্রকাশ করে এই কিংবদন্তির মৃত্যুর খবর জানালে সেখানে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেননি তিনি।
৮২র বিশ্বকাপে অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়েছেন পাওলো রসি। ঐ সময় বাংলাদেশের যেসব দর্শক পাওলো রসির খেলা দেখেছেন তারা সত্যি সৌভাগ্যবান। কালের সাক্ষী হয়েছেন। পুরো ফুটবল দুনিয়াকে ঝাঁকুনি দিয়েছেন রসি। ম্যারাডোনার যুগে বাংলাদেশের মানুষ টিভির পর্দায় সরাসরি খেলা দেখেছেন কিন্তু ৮২ বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার সুযোগ ছিল না। তার পরও দূর দেশে অবস্থান করেও পাওলো রসির ফুটবল সৌরভ ব-দ্বীপে পৌঁছে গিয়েছিল।
বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ী তারকা পাওলো রসি শুধু ইতালি ফুটবল নয়, গোটা ফুটবল দুনিয়ায় তিনি সারাজীবন স্মরণীয় এক জন খেলোয়াড় ছিলেন। স্পেন বিশ্বকাপের আগে এই ফুটবলার ছিলেন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ ছিলেন। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে রসিকে দরকার হয়। তার জায়গা পূরণ করার মতো খেলোয়াড় নেই। দেশের ফুটবলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বাধ্য হয়ে দুই বছরের শাস্তি কমিয়ে পাওলো রসিকে জাতীয় দলে নেওয়া হয়। রসিও বলেছিলেন তিনি বিশ্বকাপ জয় করতে স্পেন যাচ্ছেন। সেই পাওলো রসি তার দেশকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন। তৃতীয় বারের মতো ইতালি বিশ্বকাপ জয় করে। ব্রাজিলে খেলতেন সক্রেটিস, জিকোর মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারা। তাদের নিয়ে গড়া সেই ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইতালিকে সেমিফাইনালে তোলেন তিনি। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন পাওলো রসি। সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পাওলো রসি ২ গোল করে ইতালিকে ফাইনালে তিনি। তখনকার পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। এই ফাইনালেও প্রথম গোলটি করেন পাওলো রসি। ৮২র এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফুটবল খেললেন রসি। চিরস্মরণীয় ফুটবল খেললেন তিনি। দেশকে চ্যাম্পিয়ন করানোর সঙ্গে সঙ্গে পাওলো রসি পেয়েছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেনবল, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এবং ব্যালন ডি অর। একসঙ্গে কত পুরস্কার। দেশের স্বার্থে নিষিদ্ধ ফুটবলারের শাস্তি কমিয়ে বিশ্বকাপ জয় করল ইতালি। তা দেখে আজও এই ফুটবলারকে নিয়ে নানা আলোচনায় উদাহরণ দেওয়া হয়। দেশের জন্য ফুটবল শাসকরা কত উদার হতে পারেন।
আক্রমণভাগের এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইতালির জার্সি গায়ে ৪৮ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন। ক্লাব ফুটবলে ১০০র বেশি গোল আছে। ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে লম্বা সময় খেলেছেন ভিসেনজারে। মিলান, জুভেন্তাসসহ চার-পাঁচটি ক্লাবে খেলে মাঠ মাতিয়েছেন। ইতালির ফুটবলের এই রূপকথা নায়কের কথা সারাজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ফুটবল দুনিয়া।