দেশে দিনে দিনে বাড়ছে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর অনেক রোগীকেই চিকিত্সার জন্য পাড়ি দিতে হয় বিদেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রতি বছর ক্যানসারজনিত কারণে মারা যায় দেড় লাখ মানুষ। ক্যানসারে আক্রান্তদের চিকিত্সাসেবার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আটটি বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আর দুটি বিভাগের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব হাসপাতাল নির্মাণ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২২ সালে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আটটি বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৫তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। ঢাকার হাসপাতালটি স্থাপিত হবে রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ও সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কাজ এ মাসেই শুরু হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্যানসার চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হলে চিকিত্সাসেবা সম্প্রসারিত হবে। চিকিত্সায় বৈদেশিক নির্ভরতা কমে আসবে। অর্থেরও সাশ্রয় হবে। এসব বিষয় নিশ্চিতে হাসপাতালগুলোতে সূচনাতেই ক্যানসার রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো রোগীদের চিকিত্সা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং সেবা, হাসপাতালভিত্তিক ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন, অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, নারী ও শিশুদের ক্যানসারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মেডিক্যাল অনকোলজি, রেডিয়েশন অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, ইএনটি ও হেডনেক ক্যানসার, গাইনি অনকোলজি, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ চালু করা হবে।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারব।’