হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামবিদ্বেষীদের সরকার নিয়ন্ত্রণ না করলে ধর্মপ্রাণ মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। তারা বলেন, ‘বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আলোচনায় বসতে এরই মধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুব শিগিগর বৈঠক হবে। সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবুল কালাম, মধুপুরের পির মাওলানা আব্দুল হামিদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মামুনুল হক, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুল হামিদ, আব্দুল আউয়াল প্রমুখ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মাওলানা মাহফুজুল হক।
মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও জননেত্রী পরিষদ নামে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। হেফাজতের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে। আশা করি তাদের তদন্তের পর মামলা আর আগাবে না। সরকারও মামলা নিয়ে আর সামনের দিকে আগাবে না বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে তারা বলেন, ভাস্কর্য যে ইসলামবিরোধী, সে বিষয়ে আলেমরা ফতোয়া দিয়েছেন। কিন্তু তারা ভাস্কর্য ভাঙার কথা বলেননি। আর কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে যাদের জড়িত বলা হচ্ছে, সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে তাদের দেহ ও পোশাকের মিল নেই। আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে।’ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান হেফাজত নেতারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই এই সমস্যার সমাধান যেন সুন্দরভাবে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কবে বৈঠক হবে—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুল হক বলেন, সময় এখনো ঠিক হয়নি, যোগাযোগ চলছে। তারা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা হবে। সংগঠনের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “দোলাইরপাড়ে নির্মিতব্য ভাস্কর্য নিয়ে দেশের সর্বত্র ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে যে কোনো প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়টি ‘ইসলামসম্মত নয়’ বলে সর্বসম্মত ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে, যা একটি পত্র দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।”