হুমকির মুখে বোরো ধান উত্পাদন

পানি শুকিয়ে ফেলার কারণে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সর্ববৃহত্ চাউলধনী হাওরের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের বোরো ধান উত্পাদন হুমকির মুখে পড়েছে। ইজারাদারেরা মাছ ধরার জন্য হাওরের পানি শুকিয়ে ফেলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চাউলধনী হাওর চার পাড়ের বাসিন্দারা। আর পানির অভাবে হাওরের জমিগুলো ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। ইজারাদারেরা সরকারের দেওয়া শর্তগুলো ভঙ্গ করে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার কারণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রভাবশালী এই অমত্স্যজীবীদের প্রভাবে নিজেদের জমিতে থাকা পুকুরগুলোতে মাছ শিকার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। এমনকি এলাকার গরু-ছাগলগুলোকে গোসল ও পানি পান করাতে পারছেন না নিজেদের পুকুরে। এলাকার কেউ হাওরে বা নিজের জমিতে থাকা পুকুরে মাছ শিকার করলে ইজারাদারদের ক্যাডার বাহিনী এলাকাবাসীর বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক মাছ ধরার উপকরণগুলো ছিনিয়ে নিচ্ছে। হাওরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাঁসের খামারগুলোও ঐ গুটি কয়েক অমত্স্যজীবীর অপকর্মের কারণে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাউলধনী               হাওরে গত বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে (দৌলতপুর ইউনিয়নে ৫৫০ হেক্টর এবং দশঘর ইউনিয়নে ২৫০ হেক্টর) বোরো ধানের চাষ হয়। আর ঐ ৮০০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭৮৪ টন ধান উত্পান হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য (সরকারি হিসাবে কেজি ২৬ টাকা ধরে) প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। পানির অভাবে কৃষকেরা যদি এ বছর বোরো ধানের চাষ করতে না পারেন, তাহলে চরম ক্ষতির শিকার হবেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, বোরো ধান উত্পাদনের জন্য যে পরিমাণ পানি হাওরে থাকার কথা, বর্তমানে সেখানে তা নেই। ফলে বোরোর উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হবেই।

সরেজমিন চাউলধনীর হাওর ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে বোরো ধানের জমিগুলো ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। চাষাবাদের জন্য এলাকাবাসীর তৈরি করা বীজতলাগুলো (আলীতলা) নষ্ট হয়ে গেছে। সেচের পানির তীব্র সংকট থাকার কারণে নিজেদের জমিগুলোতে চাষাবাদ করতে পারছে না হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারগুলো। আর বোরো উত্পাদন করতে না পারলে তাদের অনেককেই আগামীতে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। আর হাওরে মাছ শিকার করতে না পারায় বেকার হয়ে পড়েছেন প্রকৃত মত্স্যজীবীরা। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাওরপাড়ের মত্স্যজীবী পরিবারগুলোকে।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান বলেন, গুটি কয়েক প্রভাবশালীর কারণে চাউলধনীপাড়ের কৃষকেরা আজ হুমকির মুখে পড়েছেন। কৃষি ও কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ইজারাদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তাছাড়া কৃষক ও এলাকার গরিব মত্স্যজীবীদের স্বার্থে হাওর ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি। তাছাড়া বৃহত্ স্বার্থে হাওরের ইজারা বাতিল করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলে মানুষ আরো বেশি উপকৃত হবে।