চলতি সেচ মৌসুমে কৃষির চাহিদা মেটাতে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন ডিজেল প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরকার হবে ৫১ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন লুব অয়েল। চলমান ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত এ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত ও বাধাহীন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, কৃষি আমাদের অর্থনীতির লাইফ লাইন। কৃষি যন্ত্রপাতি জ্বালানি সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন। বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে সেচ মৌসুম সামনে রেখে প্রয়োজনীয় তেল-গ্যাস সরবরাহ ও প্রাপ্তি সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যেসব স্থানে সমস্যা হতে পারে, সেখানে মনিটরিং বাড়াতে হবে।
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারিতেও অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে আমাদের কৃষকরা। কৃষিতে সারা বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও সেচ মৌসুমে এই চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে ডিজেলের চাহিদা ব্যাপক মাত্রায় বাড়ে। যে কোনো মূল্যে কৃষিক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে সেচ মৌসুমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
সভায় জানানো হয়, দেশে ব্যবহূত মোট জ্বালানির প্রায় ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশ ডিজেল। এর ১৮ শতাংশ ব্যবহূত হয় কৃষি খাতে। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে।
সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান, বিপিসির চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিজিবির প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।