জবি ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে ১০ ডিসেম্বর ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ,পদ পেতে মরিয়া বিতর্কিতরা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের একাংশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি-২০১৯-এর সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিদ পারভেজ ও ২ জন সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম টিটন এবং মোঃ আব্দুল্লাহ শাহীন।

নাহিদ পারভেজ বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত  ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, পদ পেতে মরিয়া বিতর্কিতরা’ শিরোনামে সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ সংবাদের একাংশে আমাকে ভুয়া উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় বলে উল্লেখ করেন। আমি ২০১২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদ পাই। পরবর্তীতে বিভিন্ন শূন্য পদের বিপরীতে বর্ধিত কমিটিতে উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদ পাই। ২০১৯ সালে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্মআহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ক্যাম্পাসের টিএসসি ও আশপাশের দোকান থেকে চাঁদাবাজি ও মালামাল লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং আমাকে হেয় করার জন্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ থেকে আমি কখনও ব্যক্তিগতভাবে এধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না। এবং আমার কর্মীরাও এ ধরনের কাজে জড়িত না। তাদেরকে সংগঠন ও নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে না জড়াতে আমি সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিয়ে আসছি। ‘বিএনপি ও মির্জা ফখরুলের প্রীতি’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকাকালীন মেস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা মিথ্যা ও উদ্ভট। আমার বাড়ি দিনাজপুর জেলা সদরে। আমার বাবা একজন চাকুরীজীবী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

উক্ত সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ও বাহিরের একটি মহল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদটি প্রকাশ করে।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম টিটন বলেন, উক্ত সংবাদে আমার ব্যাপারে কিছু অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা আমার জন্য  বিব্রতকর।গত ৩ দিন আগে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জবি প্রতিনিধি এহসান জুবায়েরের কল আসে আমার ফোনে।। তিনি আমাকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আমি মামলার নিষ্পত্তির বিষয় অবগতি করি।।নিষ্পত্তির কপি তাকে দেখানোর কথা বলি।।তারপরও এমন তথ্য প্রকাশসহ নানান অপ্রাসঙ্গিক বিষয় প্রকাশ করেন যা আমি ও আমার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।আমি আশা করবো একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রাপ্য সম্মান যেনো ক্ষুণ্ণ না হয় সেই বিষয়ে পরবর্তী নিউজে সঠিক তথ্য প্রকাশ করবেন।।এবং ভবিষ্যতে তথ্য প্রমাণাদি ছাড়া এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হতে বিরত থাকবেন।  সংবাদপত্র একটি জাতির দর্পণ সরূপ এবং একজন সাংবাদিক তার প্রতিনিধি।

মোঃ আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, উক্ত সংবাদে আমার ব্যাপারে কিছু অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবনে এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি।  গত ৩ দিন আগে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জবি প্রতিনিধি এহসান জুবায়েরের কল আসে আমার ফোনে। ।তিনি আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে আমি সকল বিষয় জানাই। ।তিনি আমার পদবী জানতে চাইলে আমি বলেছিলাম আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি (তরিকুল-রাসেল কমিটি)এবং সহ-সম্পাদক (শরীফ-সিরাজ কমিটি) এবং উনাকে বলেছিলাম উনি যেনো শরীফ - সিরাজকে ফোন করে আমার দেয়া তথ্যের যাচাই-বাছাই করেন। এছাড়াও আমার পরিবারের সকল সদস্যদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করি। আমি বলেছিলাম আমার আপন বড় ভাই আমার উপজেলা যুবলীগের পদধারী নেতা।  আমার মামা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা।  আমার চাচা বর্তমান শ্রম, আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান, সাবেক আইন সচিব ছিলেন তিনি। আমার চাচাতো ভাই ইঞ্জিঃ আরিফুল হাই রাজিব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক দুইবারের সহ-সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন) আরেক চাচাতো ভাই ব্যারিস্টার ইমরানুল হাই সজিব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির বর্তমান মেম্বার।  তারপরও আমাকে নিয়ে এমন অসত্য তথ্য প্রকাশ করেন।  আমি আশা করবো একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রাপ্য সম্মান যেনো ক্ষুণ্ণ না হয় সেই বিষয়ে পরবর্তী নিউজে সঠিক তথ্য প্রকাশ করবেন এবং ভবিষ্যতে তথ্য প্রমাণাদি ছাড়া এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হতে বিরত থাকবেন।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: উপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক দাবি করা নাহিদ পারভেজ শূন্যপদ সাপেক্ষে এই পদ পেয়েছেন; এমন কোনো কাগজ দেখাতে পারেন নি। তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে অনুপস্থিত থাকায় সর্বশেষ তরিক-রাসেল কমিটিতে কোনো পদ পাননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও আশপাশের দোকানে তার কর্মীদের চাঁদাবাজি ও মালামাল লুটের ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে জমা আছে। এনিয়ে নাহিদ পারভেজের সাথে বসে মিটমাট করতে চাইলে তিনি নিজ দলের কর্মীদের ডেকে সতর্কও করেন। এটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।

নাহিদ পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে এসে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের সাথে একই মেসে উঠেন। সেই মেস থেকে নাহিদ পারভেজকে  ‘বিএনপি ও মির্জা ফখরুলের প্রীতি’র দায়ে বের করে দেন বলে তিনি জানান। এই অভিযোগের বিষয়ে কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে আছে। এই অভিযোগ বিষয়ে নাহিদ পারভেজের বক্তব্য জানতে ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মুঠোফোনে বারবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এমআর