কেবিন পাওয়া গেল না। মৌলানা আলি মৃধার ছেলের শ্যালক সরকারের অতিরিক্ত সচিব। তিনিও পারলেন না। করোনা ভিভিআইপিদের ঠেসে ধরছে বেশি। কেবিনের চাহিদা তুঙ্গে। সিরিয়াল আসতে আসতে টেসে যাওয়ার চান্স আছে।
কেবিন থাক, সুচিকিত্সায় মনোযোগী হয়ে উঠল সঙ্গে থাকা মৌলানার ছেলে। জেনারেল ওয়ার্ডে আরো চারটে বেডের রোগীরা চুপসে গেল মনোযোগের ঠেলায়। কাল রাত থেকে জ্বর নেই, কাশিও কম বলে সুচিকিত্সায় চিকিত্সকরা ভরসা রাখতে বললে আপাতত ঝড় কমল। সকালে পাশের বেডের তরুণ রোগীকে আইসিইউতে যেতে হলো, ঝড়টা তখন পরিণত হলো নিম্নচাপে। কখন কী ঘটবে বলা যাচ্ছে না। সরকারের অতিরিক্ত সচিবের কাছে ফোন যায় ঘনঘন। দুপুরে পাশের খালি থাকা বেডটায় নতুন রোগী এলো। গ্রামতোতো রোগী, তার সঙ্গে থাকা স্ত্রীর শাঁখা-সিঁদুর দেখে কেবিনের প্রয়োজনীয়তা বিপুল বেগে ধেয়ে গেল হাসপাতালের চিকিত্সক-নার্স তথা করোনার সম্মুখযোদ্ধা বলে স্বীকৃত সকলের দিকে। যেভাবে খকখক কাশি, ডাবল করোনা না বেধে যাবে না। মৌলানার ছেলেকে আর দেখা গেল না। মাঝ রাতে নার্সদের ডেকে আনারও কেউ ছিল না। জ্বরতপ্ত কপালে জলপট্টি দেওয়া হাতটায় শাঁখার শুভ্রতা কাঁদিয়ে দেয় মৌলানাকে। বহু বছর আগে মরে যাওয়া মা তাকে ছেড়ে যাননি তবে! নাকি মা তাকে নিয়ে যেতে এসেছেন?
মৌলানা আলি মৃধা ব্যাকুল হয়ে ডাকতে থাকেন মাকে। মাকে ডাকতে এত ভালো লাগে, কোনো কালে টের পাননি যে!