কক্সবাজারের চকরিয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে দলছুট বুনো হাতিকে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বনে ফেরালো বনকর্মীরা। সকাল ১০টা হতে চেষ্টা শুরু করে কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া হাতিটিকে সন্ধ্যার আগে বন ফেরানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিশেষ (স্পেশাল) টহল টিমের ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতা এলাহী।
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ভোররাতে খাবারের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলাধীন বেতুয়া বাজার পুচ্ছালিয়া পাড়া লোকালয়ে এসে পড়ে। সকালের আলো ফোটার পর স্থানীয়রা হাতিটিকে দেখতে পায়। তখন দলছুট হাতিটি এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল। উৎসুক মানুষও দলছুট হাতিটির পিছু নেয়। মানুষের তাড়া খেয়ে হাতিটি পুচ্ছলিয়া পাড়ার জঙ্গলে ঢুকে পড়লে। জঙ্গলের চারদিকে লোকালয় হওয়ায় হাতিটিকে নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মাঝে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল টিমের ইনচার্জ এ কে এম আতা এলাহী জানান, দলছুট বুনো হাতি লোকালয়ে নেমে আসার খবরে অভিযানে নামে বনবিভাগ। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন নেওয়াজের নেতৃত্বে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম, উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল দল, ডুলাহাজারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী একদল বনকর্মী এবং সিপিজি সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৮ ঘন্টা প্রচেষ্টা চালায়। কঠোর পরিশ্রমে কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া বন্য হাতিটিকে লোকালয় হতে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল বনাঞ্চলের দিকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, বুনো হাতিটি হয়তো খাবারের সন্ধানে অন্য পালের সাথে ঘুরতে গিয়ে দলছুট হয়ে লোকালয়ে এসে যায়। পাহাড়ের কাছাকাছি লোকালয় থাকলে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে, ক্ষয়ক্ষতিহীন ভাবে হাতি বনে ফেরানো অস্বাভাবিক। কিন্তু আজকে দলছুট হাতিটিকে বিনাক্ষতিতে নির্দিষ্ট আবাসে ফেরাতে পারা শোকরিয়ার বিষয়। এটি সম্ভব করতে শ্রম দেয়া এলিফেন্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্যসহ বনবিভাগের সকল এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডিএফও।
ইত্তেফাক/এমএএম