অর্থনীতির গতি ফেরাতে উদ্যোগী কুয়েত

মো. শাহাদাত হোসেন নিশাদ

 

করোনার দাপটকে উপেক্ষা করে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে কুয়েত সরকার। প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতা না আসলেও এখন পর্যন্ত এই করোনা পরিস্থিতিতেও বড় কোনো ব্যর্থতার সন্ধান মেলেনি। কিছুদিন আগে দেশটির আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ ৯১ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর দেশটির মন্ত্রিসভা তার সত্ভাই ৮৩ বছর বয়স্ক শেখ নওয়াফ আল-আহমেদকে নতুন আমির বলে ঘোষণা করে। এরপর তার অধীনে দেশটির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে নতুন সরকার দ্রুত করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতি উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এরই মধ্যে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ষাটোর্ধ্ব স্নাতক ডিগ্রিবিহীন প্রবাসী শ্রমিকদের আকামা আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রায় ৯৬ হাজার স্নাতক ডিগ্রিবিহীন শ্রমিককে দেশে ফিরতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে তেলের দাম পতন হয়েছে বিশ্ব জুড়ে। তাই তেল নির্ভর অর্থনীতির এই দেশটির অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। নির্বাচনি প্রচারণায় তাই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রেখেছিল অর্থনৈতিক দুরবস্থা। তবে দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিয়ে সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারো কারো মতে পেট্রোডলারের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিকে রূপান্তরের কোনো নিয়মতান্ত্রিক পরিকল্পনা পেশ করতে পারছেন না রাজনীতিবিদরা। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার জোর দাবি উঠেছে দেশটিতে। রেকর্ড বাজেট ঘাটতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে কুয়েতের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস, চলতি বছরে উপসাগরীয় অর্থনীতিটি ৮ শতাংশ সংকুচিত হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য নিয়ে গ্লোবাল ফাইন্যান্স ম্যাগাজিন ও হাউমাচ ডটনেটের তথ্য অনুযায়ী কুয়েত বিশ্বের ৯ম ধনী দেশ। পারচেইজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ডলারে মাথাপিছু জিডিপি ৬৭ হাজার ৯০০ ডলার। ১৯৩৪ সালে প্রথম মরুভূমির এই দেশে খনিজ তেল পাওয়া গিয়েছিল। সেই শুরু কুয়েতের উত্থান। বিশ্বের মোট তেলের ৬ শতাংশই কুয়েতের। কুয়েতের জিডিপির ৪০ শতাংশ আসে তেল থেকে, রপ্তানির ৯০ শতাংশই তেল। কুয়েতের জনসংখ্যা মাত্র ৪১ লাখ। এর ৩০ লাখই অভিবাসী।