বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে জটিলতার অবসান

বহু প্রত্যাশিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্থান নিয়ে আপাতত জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রতিদিন শহরসহ আশপাশ এলাকা থেকে লোকজন ছুটে আসেন প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্বাচিত স্থান ‘দেখার হাওর’ দেখতে।

আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ ‘আব্দুজ জহুর ব্রিজ’ সংলগ্ন পশ্চিমের মাঠে ‘সুনামগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামো স্থাপন নিয়েও রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এলাকাবাসী মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ৩০০ একর ভূমি ভরাট করে এই স্থাপনা নির্মিত হলে সুনামগঞ্জ সদরসহ আশপাশ এলাকায় বিশাল জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে মত প্রকাশ করে বলেছেন, পরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, হাওর এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিঃসন্দেহে আনন্দের। এতে শিক্ষার মানবৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীর গাইড লাইন নিতে হবে। ধান, মাছ ও জীববৈচিত্র্য ঠিক রেখে যে কোনো অবকাঠামো গড়লে সুফল আসবে।

শহর সংলগ্ন দেখার হাওরটি বর্ষাকালে অনেকটা সাগরের রূপ নেয়। হেমন্তে প্রচুর জমিতে বোরো ফসল উত্পন্ন হয় এই হাওরে। যদিও নানা দিক বিবেচনায় স্থানটি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এর ব্যবহার যথাযথ বিজ্ঞান সম্মত না হলে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জ জেলায় নতুন করে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানালেন বিশিষ্টজনরা। ‘হাওরের বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে যদি এর অবকাঠামো ভাসমান রাখা হয়, তাহলে এটি যেমনি দৃষ্টি নন্দন হবে,’ মন্তব্য করেন সুনামগঞ্জ- ৫ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, হাওরে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে বর্ষায় ভেনিস নগরীর রূপ নেবে। সুনামগঞ্জ হবে পর্যটন সমৃদ্ধ। একই মত প্রকাশ করে বেসরকারি সংস্থা হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমীর রেজা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা হাওরের মধ্যে। তাই বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি এমন কঠিন নয়। এটা এখন বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।