পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক কারখানায় ফের আগুন

পুরান ঢাকার চকবাজারের উর্দু রোডের ‘নোয়াখালী ভবনে’ প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৪টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও চারতলা এ ভবনের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি প্লাস্টিক কারখানা ও গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের কাঠামো। এদিকে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঐ ভবনের ঘুমন্ত লোকজন দিগ্বিদিগ ছুটোছুটি করে ছাদের ওপর দিয়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ও আতঙ্কে আশপাশের ভবনের লোকজন বিনিদ্র রাত কাটায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, এই ভবনটি এর আগেও ফায়ার সার্ভিস পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তার পরও এখানে কারখানা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।

তিনি জানান, কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। আগুন নেভাতে তাই বেগ পেতে হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস থেকে সুপারিশ করা হয়, এই এলাকা থেকে অবৈধ প্লাস্টিক কারখানা সরানোর জন্য। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নোয়াখালী ভবনের একটি প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক খোকন জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ঐ ভবনের চারতলায় ঘুমিয়েছিলেন। গভীর রাতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও লোকজনের চিত্কারে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ভবনের সামনের দিকে আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া। ঐ সময় তিনিসহ আরো কয়েক জন দৌড়ে ছাদে উঠে পাশের ভবনের ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে যান। তারা দূর থেকে চেয়ে দেখেন, ভবনের নিচতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত প্লাস্টিকের কাঁচামাল ও প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, গত পাঁচ বছরে এই ভবনে চারবার আগুন লেগেছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ জানার পরও এখানে প্লাস্টিকের কারখানা করা হয়েছে। কারখানায় দিন-রাত কাজ চলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তন চলছিল। তাই বেশি শ্রমিক সেখানে ছিলেন না। এক গ্রুপ কাজ শেষ করার পর অন্য গ্রুপ কাজ শুরু করবে—এমন সময় আগুন লাগে। আগুনের পর শ্রমিকরা দ্রুত বের হয়ে যান। দুজন বয়স্ক লোক আটকা পড়েছিলেন, তারাও পরে বের হয়ে আসেন। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভবনটির এক পাশ ধসে পড়েছে। বর্তমানে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। চকবাজার থানা পুলিশের কয়েক জন সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। ফায়ার সার্ভিস তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি।