পাশে কেউ না থাকলেও অনড় থাকবেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হয়েছে এক মাসের বেশি সময় আগে। কিন্তু এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং কোনো প্রমাণ ছাড়া ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের এই প্রচেষ্টা শুরুর পর থেকে অনেক সঙ্গী-সহযোগী তার থেকে দূরে সরে গেছেন। কিন্তু তিনি এখনো নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। গতকাল সিএনএনের এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে এক পার্টিতে ট্রাম্প বলেন, তারা আমাকে ২০২৪ সালের কথা বলছেন। এটি নিয়ে এখনই আমি আগ্রহী নই। বরং এই নির্বাচনের ফল কি হয় সেটাই দেখতে চাই। তার কথায় কিছুটা হতাশার প্রকাশ ঘটেছে। যাতে মনে হয়েছে, তার সহযোগীরা নির্বাচন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

সুয়ং স্টেটগুলোতে বেশিরভাগ মামলায় তিনি পরাজিত হয়েছেন। এখন চারটি সুইং স্টেটের লাখ লাখ ভোট বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে লড়াইটা ট্রাম্পের একার হয়ে পড়ছে।

ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সহায়তার অভাবে ট্রাম্পের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, রিপাবলিকান নেতারা তাকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছেন না। তিনি আস্থাভঙ্গকারীদের শাস্তি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে অনেক বেশি হতাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। যিনি বলেছেন, নির্বাচনে জালিয়াতির প্রমাণ পাননি।

ইতিমধ্যে নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এরপর থেকে একে-একে ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের হারাচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরা নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পও রয়েছেন। ট্রাম্পের আইনি টিম ও অন্দরমহলের বুঝতে বাকি নেই যে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা শেষ হতে চলেছে। হোয়াইট হাউজের অনেক কর্মী ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

কিন্তু ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলছেন। তাকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি ও জেনা এলিস। সম্প্রতি তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। বেশিরভাগ রিপাবলিকান নেতা বাইডেনকে স্বীকৃতি দেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ট্রাম্পের পাশেই রয়েছেন। কিন্তু অনেকেই ট্রাম্পের পাশে থেকে সরে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্প বুঝেছেন কে কে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।