দিনাজপুরের খানসামায় ঘোরে না বাসের চাকা

সড়ক আছে, আছে ব্রিজ-কালভার্টও। এর পরও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা খানসামায়। উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক দখল করে আছে ভটভটি, নসিমন, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান। বাস চলাচল না করার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এসব অবৈধ যানবাহনেই চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ২ লাখ মানুষকে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও। আধুনিক যুগেও জনগণের এই দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে খোদ সরকারি দলের নেতারই অভিযোগ করছেন, সুবিধাবাদী একটি চক্রের কারণেই বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও এ উপজেলায় চলাচল করতে পারছে না যাত্রীবাহী বাস। দিনাজপুর জেলা সদর থেকে খানসামা উপজেলার সড়কপথে দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। আর এখান থেকে নীলফামারী জেলা সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। সৈয়দপুরের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার এবং বীরগঞ্জের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে এসব স্থানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক পাকা সড়ক। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে খানসামা উপজেলায় বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস।

গত এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানে খানসামা থেকে নীলফামারী যেতে প্রাণ গেছে দুই নারীর। অবৈধ এসব যানে চলাচল করতে এই উপজেলায় প্রতি বছরই প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের। দিনাজপুর মোটর পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহেদ রিয়াজ চৌধুরী পিম জানান, দিনাজপুর জেলার অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুটে তাদের বাস চলাচল করে প্রায় ৩০০। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতেই চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস। একমাত্র খানসামা উপজেলায় তাদের বাস চলাচল বন্ধ। স্থানীয় অবৈধ নসিমন, ভটভটি, অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান চালক সমিতির চাপেই তারা এই উপজেলায় বাস চালাতে পারছেন না। এর জন্য প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেন তিনি।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, আধুনিক সভ্যতার এই যুগে আমাদের উপজেলায় কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। তিনি বলেন, দেড় বছর আগে এই উপজেলায় বিআরটিসির বাস চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং চালুও হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পরই সেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণেই এই উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে না।

খানসামা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও রয়েছে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শাখা। স্থানীয় শ্রমিকনেতা তালহা চৌধুরী এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হলেও বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও। তিনি জানান, রাস্তা সরু হওয়ার কারণে ১৫ বছর আগেই এ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাস্তাগুলো ভালো হওয়ায় আবার বাস চলাচলের জন্য মোটর মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। এর আগেও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে বাস চলাচল করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম জানান, এই উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তবে সম্প্রতি এই উপজেলা থেকে ঢাকাগামী দুটি বাস চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।