চকরিয়ায় লোকালয়ে হানা দেওয়া বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এ পরিস্থিতির জন্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজার হওয়াকে দায়ী করছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের চুনতী রেঞ্জের হারবাং অভয়ারণ্য বনবিটের অধীন বিস্তৃীর্ণ পাহাড় ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন ফাঁসিয়াখালী বনবিটের উচিতারবিল, শীল ডেবা, জোড়া ডেবা ও ডুলাহাজারা বনবিটের মালুমঘাট ও ফুটের ঝিরির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১ হাজার ৩০২ হেক্টর বনভূমি হচ্ছে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ছিল। কিন্তু গত দশ বছর ধরে এই আবাসস্থল বিনষ্ট করা হচ্ছে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে বাঁশখাইল্লা পাড়ার খাবারের সন্ধানে অতর্কিত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে দলছুট একটি বন্য হাতি। এই অবস্থায় হাতিটিকে নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফের বন্যহাতিটিকে বনাঞ্চলে ফেরাতে সক্ষম হন বন বিভাগের লোকজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, হাতিটি মানুষের তাড়া খেয়ে সাত ঘণ্টা পর পুচ্ছলিয়া পাড়ার জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।
পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বনাঞ্চলে নির্বিচারে বন উজাড়, সেখানে অবৈধ বসতি নির্মাণ, ইটভাটা স্থাপনসহ প্রাকৃতিক তাণ্ডবে ১০-১২ বছর আগে থেকে বন্যপ্রাণী তথা বন্যহাতির আবাসস্থল একেবারেই ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে সেখানে দেখা মিলবে অবৈধ ইটভাটা, শত শত অবৈধ বসতবাড়ি, পাহাড় কাটার দৃশ্য।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু বলেন, বন্যপ্রাণী তথা বন্যহাতির আবাসস্থল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে যেন বন্যহাতি নিরাপদে সেখানে বিচরণ করতে পারে। এটি সম্ভব হবে তখনই যখন সেখানে থাকা অবৈধ বসতি ও ইটভাটাসহ পরিবেশ বিধ্বংসী সবধরনের স্থাপনা অপসারণ করা হবে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চার এলাকা তথা ফাঁসিয়াখালী বনবিটের শীল ডেবা, জোড়া ডেবা এবং ডুলাহাজারা বনবিটের মালুমঘাট ও ফুটের ঝিরিতে বন্যপ্রাণীর সেই আগের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অভয়ারণ্য এলাকার ৬০ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এসিস্টেট ন্যাচারাল রিজেনারেশন (এএনআর) বাগান এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়নে পশুখাদ্য উপযোগী ৪০ হেক্টর বাগান সৃজন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরো ১০০ হেক্টর এলাকায় পশুখাদ্য উপযোগী বাগান সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য আগেকার অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হয়ে গেলে আশাকরি, বনাঞ্চলে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল যেমন তৈরি হবে, তেমনি খাদ্য সংকটও কেটে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।