করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন প্রণোদনার ইঙ্গিত বাণিজ্যমন্ত্রীর

 

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নতুন করে সরকারের প্রণোদনা সহায়তা চেয়েছে। পোশাক শিল্প মালিকদের এমন দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও। গতকাল বিজিএমইএ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি নতুন প্রণোদনা দেওয়া এবং বিদ্যমান প্রণোদনার সুবিধা আরো বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ছে। সেক্ষেত্রে এই খাতে যে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল, তা পুনরায় বিবেচনা করা হতে পারে। আমাদের সবাইকে আবারও চিন্তা করতে হবে যে, হয়তো সাহায্য সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তাদেরকে হয়তো সময় (ঋণ পরিশোধের) বাড়িয়ে দেওয়া লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা সামনের বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবেন।

এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজিএমইএ আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। আমরাও এর ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিক এবং জাতীর পিতার শততম জন্মবার্ষিক উপলক্ষ্যে সরকারের এসডিজিকে সামনে রেখে বিজিএমইএ ‘গো হিউম্যান গো গ্রিন’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় সাতটি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিয়েছে। ঐ প্রতিশ্রুতির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ঐ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হকের সভাপতিত্বে এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বিজিএমইএ সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ বক্তব্য দেন। এ সময় পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ড. রুবানা হকের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো বড় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে প্রণোদনা সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে মেয়াদ বিদ্যমান দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর এবং মোরাটরিয়াম (যে সময় পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয় না) ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করার দাবি জানিয়েছে। 

বিজিএমইএর সাত প্রতিশ্রুতি : পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন বিজিএমইএ ঘোষিত সাতটি প্রতিশ্রুতি হলো শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা, শ্রমিকের সন্তানদের প্রাক-শৈশব শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, আর্থসামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম, ফ্যাশন-বিশ্বে রপ্তানি পণ্যে ঐতিহ্য উপস্থাপন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা এবং দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ। এসব প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে ড. রুবানা হক বলেন, পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে শ্রমিকদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে ৭০ জন নারী কর্মী কারখানা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনির্ভার্সিটি ফর উইমেনে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। এছাড়া কারখানার ডে কেয়ারে থাকা শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের অনলাইন শিক্ষা প্রদানে জাগো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে।

শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘মনের বন্ধু’র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকরা আবেগ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিকভাবে নিজেকে ভালো রেখে কীভাবে উত্পাদনশীলতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ পাচ্ছেন। ফ্যাশন-বিশ্বে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোশাকশিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজিএমইএ কারখানাগুলোর জন্য উত্পাদনশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।