ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। কিন্তু এমন সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে হল বন্ধ রাখাকে অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক, অদূরদর্শী, শিক্ষার্থী বিমুখ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তও বলছেন তারা। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে এমন মত দেয়।
বিজ্ঞপ্তি দেয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রলীগ, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফ্রন্ট (মাক্সবাদী)। এছাড়া অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারাও হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণে একমত নন। ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দিয়ে তারপর যাতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ওই সভায় হল খোলার বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সেশনজট নিরসন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জরুরি।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য হলে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এ ধরনের সিদ্ধান্তগ্রহণ একপাক্ষিক, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিপ্রতীপ, বিদ্যমান বাস্তবতায় অনুপযুক্ত সমাধান এবং কোন অবস্থাতেই অভিভাবক সুলভ নয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্পষ্টতই অনভিপ্রেত এবং করোনাকালীন বাস্তবতায় আর্থিক সক্ষমতার বাইরে।
ওই বিবৃতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামত, অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলা হয়। তারা মনে কওে, পরীক্ষার্থীদের জন্য হল উন্মুক্ত করে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে, সঠিক রূপকল্প ও বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা গ্রহণ করা বাস্তবসম্মত, ন্যায়ানুগ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মর্যাদার জন্য উত্তম সমাধান।
প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে:
‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না’ এমন কথা বলে প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জানি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী হলে থাকে। এই পরিস্থিতিতে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব অস্বীকার করছে। শিক্ষার্থীদের কাঁধে দায় চাপিয়ে প্রশাসন চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
তারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে, তাদের সমস্যাগুলো যাচাই করে ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু ও হল খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি সাপেক্ষে রূপরেখা হাজির করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র ফ্রন্ট।
ইতিবাচক, তবে হল খুলতে হবে:
এদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই ইতিবাচক। কিন্তু আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেকের জন্য এই সময়ে ঢাকায় থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়৷
ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা আবাসনের জন্য হল খুলে দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের দাবি তুলে ধরেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আশানুরূপ কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছাত্র অধিকার পরিষদ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবির সঙ্গে একমত৷ উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তাই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে পরীক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।
ইত্তেফাক/এসআই