কোভিড-১৯ :স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে অভিযোজন

২ হাজার ৫০০ বছর আগে একজন গ্রিক দার্শনিক বলে গিয়েছেন যে, জীবনের একমাত্র ধ্রুবক পরিবর্তন। ইদানীং পরিবর্তনগুলো দ্রুত গতিতে দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

 কোভিড-১৯-এর ছোবলে বিশ্ব আজ এক নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যস্ত। মহামারির আগে মানুষের কাছে যা কিছু স্বাভাবিক ছিল করোনা মহামারির সময়কাল ও তার পরবর্তী সময়ে এক নয়া বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে মানুষ। যাকে নিউ নরমাল লাইফ বলা হচ্ছে। মূলত ‘নিউ নরমাল’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘পূর্ববর্তী অপরিচিত বা নাটকীয় পরিস্থিতি যা আদর্শ, স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে।’ ফলে যে বিষয়টি আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না, সেই নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়টি হলো নিউ নরমাল। আর এই নয়া স্বাভাবিকতা অবশ্যই কঠিন একটি কাজ। তবে আমরা যদি কোভিড-১৯ নামক মহামারি থেকে রক্ষা পেতে এবং নিরাপদ থাকতে চাই, যতই অপ্রত্যাশিত বা আকস্মিক হোক না কেন এই ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে চলতেই হবে। করোনা ভাইরাস মহামারিতে আমাদের জীবনযাত্রায় অবিশ্বাস্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

শিক্ষা কার্যক্রম, অফিস, আদালত কে জানতো আমাদের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। নার্সারিতে পড়ে সেই শিক্ষার্থী এখন অনলাইনে ক্লাস করছে যা হয়তো আমরা আগে কখনো চিন্তাই করিনি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে। জীবনের প্রয়োজনে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে আমাদের পুরোনো জীবনযাত্রাকে ছেড়ে দিয়ে এই ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। কেননা, কোভিড পরবর্তী সময়ে জীবন পালটে গিয়েছে পুরোপুরি। কেউ রোগের ভয়ে ঘর থেকে বেরচ্ছে না। কাউকে আসতে দিচ্ছেন না বাড়িতে বা ঢুকতে দিতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। ত্রিসীমানায় কোনো কোভিড রোগীর কথা কানে এলে আতঙ্কে সিঁটিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার ভাবছেন কিছুই হবে না । দল বেঁধে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটোর কোনোটাই চলবে না। আতঙ্কে গুটিয়ে থাকলে যেমন হবে না। সবকিছু বেশি হালকাভাবে নিলেও মুশকিল। চলতে হবে ভারসাম্য রেখে। মেলামেশা, আড্ডা, খাওয়া, বেড়ানো, ব্যায়াম, সবই চলবে। তবে নতুন নিয়মে।

তবে এটি ঠিক যে, এই ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার সর্বস্তরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। লকডাউনের সময় হয়তো ভেবেছিলাম লকডাউন উঠে গেলে সব হয়তো আবার আগের মতোই হয়ে যাবে। কিন্তু না, বন্ধ থাকার পর যে সব দেশ লকডাউন উঠিয়ে নিয়েছে, সেখানেই দেখা গিয়েছে ভিন্ন চিত্র। আগের মতো পথে-ঘাটে, সুপার মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় আর চোখে পড়ে না। মানুষ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে খুব কম বের হচ্ছেন। এমনকি কম খাওয়া, ঘরে থাকা, দূরে দূরে থাকা, এসবই এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়