ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে প্রি-পেইড পদ্ধতিতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুত্ ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে মিটার স্থাপনের কাজ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দুঃখের বিষয়, উভয় ক্ষেত্রেই এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ফলে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহূত গ্যাসের ব্যাপক অপচয় রোধসহ বিল পরিশোধে গ্রাহক হয়রানি অনেকটাই লাঘব হয়েছে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী ব্যবহূত গ্যাস বাবদ তুলনামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের তরফ থেকে বড় ধরনের তেমন কোনো অভিযোগও নেই। অথচ একই বিষয়ে বিদ্যুত্ গ্রাহকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে খতিয়ে দেখে আশু প্রতিকার আবশ্যক। অবশ্য এসব অভিযোগের পিছনে খোদ বিদ্যুত্ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং কিছু অসাধু গ্রাহকের যোগসূত্র থাকাও বিচিত্র নয়। কারণ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ফলে কারো কারো স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুত্ বিভাগের অনেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদানে সহায়তা, মিটারে কারসাজি, মনগড়া মিটার রিডিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহককে বাড়তি বিল প্রদানে বাধ্য করা ইত্যাদি অভিযোগ বহুল প্রচারিত। তার ওপর ইদানীং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রকল্পের নামে ইউনিট প্রতি উচ্চ উত্পাদন ব্যয়, মাত্রাতিরিক্ত সিস্টেম লস দেখিয়ে বিদ্যুত্ চুরি, অবৈধ সংযোগ দিয়ে বিদ্যুতের অপব্যবহার ইত্যাদি কারণে বৈধ গ্রাহকদের ওপর অযথা বাড়তি বিলের বোঝা চাপছে। বারবার বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যয় সমন্বয়ের নামে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। পরিশেষে, দেশ ও সাধারণ গ্রাহকদের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো দুটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে সবরকম দুর্নীতির আশু অবসান কাম্য।
শাহীদুল আযম
উত্তর টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা