৫ হাজার বিঘা আবাদযোগ্য উর্বর জমিতে জলাবদ্ধতা

শুষ্ক মৌসুমেও ৫ হাজার বিঘা আবাদ যোগ্য উর্বর জমি পানিতে তলিয়ে আছে, এমন খবরের তথ্যউপাত্ত সংগ্রহের সময় সেলিম শেখ, আব্দুল হামিদ, রহমত আলী ও আবু সাইদ নামে চার জন কৃষক তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে বিস্তীর্ণ মাঠের জমির মধ্যে নেমে পড়েন। এ সময় তারা দুই হাত তুলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। 

বিপদগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, এ প্রতিবাদ তাড়াশ উপজেলার অসহায় হাজারো কৃষকের। বোরো মৌসুমে অন্যান্য কৃষকেরা যখন বীজতলা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখনো তাদের আবাদের জমি পানিতেই তলিয়ে আছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র অবৈধ পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছেন স্বার্থান্বেষী মহল। ফলে বন্যার পানি আটকে কমপক্ষে ৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। দ্রুততম সময়ে জমিগুলো জলাবদ্ধতামুক্ত করা না হলে তাদের খেয়েপড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন পানির নিচেই রয়ে যাবে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছোট-বড় ৯৭৫টির মতো পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে এক দশকে আবাদি জমি কমেছে ৬১৫ হেক্টর। একই সঙ্গে শস্যভান্ডার হিসেবেখ্যাত তাড়াশ উপজেলায় খাদ্য উত্পাদন ব্যাপক হারে কমতে শুরু করেছে। অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও খাল-নয়নজুলিগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিভিন্ন মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ বছরও বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় সুযোগ না পেয়ে ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রবি শস্য আবাদ করতে পারেননি কৃষক। সূত্র উপজেলা কৃষি বিভাগ।

এদিকে কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন স্থানীয়ভাবে একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছিল। ইতিমধ্যে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন কয়েক হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন ও অন্যান্য জলাধার দিয়ে বাধামুক্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।