ওসমানীনগরে স্থাপনা নির্মাণে বাধা নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী পরিবার

ওসমানীনগরে আদালতের রায় থাকার পরও নিজ ভূমিতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এক প্রবাসীর পরিবার। এলাকার একটি পক্ষ প্রবাসীর ১০ শতক ভূমির দখল নিতে চালিয়ে যাচ্ছে নানা তত্পরতা। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আদালতের রায়ের আলোকে নতুন স্থাপনা নির্মাণে প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে শনিবার বিকালে ওসমানীনগর প্রেসক্লাবে প্রবাসী আব্দুল হকের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তার ভাগনে সুমন মিয়া।

উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকার তাজপুর গ্রামের সুমন মিয়া লিখিত বক্তব্যে জানান, গত তিন বছর ধরে নতুন বাজার এলাকায় প্রবাসী আব্দুল হকের ১০ শতক ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে স্থানীয় একটি পক্ষ দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা চালায়। এ বিষয়ে আব্দুল হক বাদী হয়ে ২০১৭ সালে নতুন বাজার এলাকার খাতুপুর গ্রামের সৈয়দুল ইসলাম ও তাজপুর গ্রামের আলী হোসেন গংদের অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হকের পক্ষে রায় প্রদান করেন। সহায়তা প্রদানের জন্য রায়ের বিষয়ে থানা পুলিশকেও অবগত করা হয়। কিছুদিন আগে আদালতের রায় উপেক্ষা করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আব্দুল হকের ভূমিতে থাকা টিনশেডের দোকানকোঠা দখলে আবারও চেষ্টা চালায় এবং নতুন স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেয়। কিন্তু গত ১৮ নভেম্বর সকালে উল্লেখিত ভূমিতে নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলে সৈয়দুল ইসলাম সৈয়দ, মুহিবুর রহমান এপ্যালের নেতৃত্বে তাদের নিযুক্ত ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে সৈয়দুল ইসলামসহ তার নিযুক্ত লোকজন নির্মাণশ্রমিকসহ সুমন মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে চলে যায়। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। থানা পুলিশ বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আলী হোসেনকে অভিযুক্ত করে ২০ নভেম্বর এ ব্যাপারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দুল ইসলাম বলেন, আমরা কাউকে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেইনি। ঐ প্রবাসী আমার জায়গার ওপর বালু ফেলে রেখেছেন। ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, আদালত যে রায় প্রদান করেছেন আমরা সে রায় বাস্তবায়নেই কাজ করছি। কোনো প্রকার দখল, হামলা কঠোর হস্তে মোকাবিলা করার প্রত্যয়ে থানা পুলিশ তত্পর রয়েছে।