সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সব প্রগতিবিরোধী প্রচারণা রুখে দাঁড়াতে দেশপ্রেমিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সব মুক্তমনা বিবেকবান মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, দেশে একমুখী শিক্ষার প্রবর্তন না করে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক ও ইংরেজিমাধ্যম শিক্ষার প্রসার দেশে বিভেদ ও বৈষম্য আরো বৃদ্ধি করেছে। মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমন্বয়ে বৃদ্ধি এবং এদের উগ্রবাদের অনুশীলন সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের অধিকারবোধকে সংকটাপন্ন করে তুলছে। এই ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ভাস্কর্য নির্মাণে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছে। এই অপশক্তি বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন শিক্ষাসহ সব প্রকার সাহিত্যকর্ম ও শিল্পচর্চার বিরোধী। গতকাল শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রচারোনাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এই সমাবেশের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ শেষে একটি মৌন মিছিল শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে পৌঁছে শেষ হয়।
সৈয়দ আব্দুল্লা আল মামুন চৌধুরী বলেন, বিজয়ের ঊষালগ্নে যারা বাংলার মেধাবী মানুষদের হত্যা করেছে তারা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শূন্য করতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে এই অপশক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার অপচেষ্টা করছে। আজ বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্বকে মুছে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে জঙ্গিবাদীদের রুখতে হবে। এরা নানান কৌশলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আজ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। আমাদের ক্ষমতাসীন সরকারকে এই অপশক্তির চক্রান্ত ও দৃষ্টতা বিবেচনা নিয়ে কর্মপন্থা ঠিক করতে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভাস্কর্য ভাঙা ও বিরোধিতার মধ্যদিয়ে ধর্মভিত্তিক অপশক্তিগুলো দেশে একটি অরাজকতার মাধ্যমে তাদের সুপরিকল্পিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। ইতিপূর্বে এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেয়েছিল। এখন তারা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে পরিকল্পিত একটি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একের পর এক কাল্পনিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করে সংগঠনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পারভেজ হাসেম। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভুঁইয়া, জাসদ নেত্রী তনিমা শরীফ, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদের নেতা এম এ রব, জনউদ্যোগের মাহবুবর রহমান, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, সানোয়র হোসেন সামছি, জহিরুল ইসলাম জহির, ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, মহানগর নেতা জুবায়ের আলম, বেলায়েত হোসেন প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ।