আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি আদেশ জারি করা, জেলহত্যা, গ্রেনেড হামলা, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করাসহ এমন কোনো জঘন্য কাজ নেই যা বিএনপি করেনি। জন্মলগ্ন থেকে ক্ষমতার লোভে ধারাবাহিকভাবে তারা মানবতাবিরোধী আপরাধ করে আসছে। জনগণ মনে করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।’
গতকাল শনিবার সকালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত হন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির হাতে রক্তের দাগ, পোড়া মানুষের গন্ধ। এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে মাস্তানতন্ত্রের জনক বিএনপি। বিএনপি দলের মধ্যে গণতন্ত্র নেই। তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে কি করে? তাদের রাজনীতির সঙ্গে দেশের মাটি ও মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি বড় দলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা হতে হবে সংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে। কোনোভাবেই দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোনো কাজ করা যাবে না। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর। দলের শৃঙ্খলা না মানলে যত বড় নেতা জনপ্রতিনিধি হোন না কেন দল ছাড় দেবে না। যারা এর আগে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহ করেছিল, তারা জয়ী হোক বা পরাজিত হোক; তাদের এবার পৌরসভা নির্বাচনে আমরা মনোনয়ন দেইনি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের জন্য এটা শেখ হাসিনার এক কঠোর বার্তা। তিনি বলেন, দলকে সংগঠিত করতে ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের নিয়ে কমিটি করা যাবে না। বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এর কোনো বিকল্প নেই। তাই অযথা দূতাবাসে ছুটোছুটি, গোপন সভা আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে উসকানি দিয়ে লাভ হবে না। জনগণের কাছে যান, বিদেশি শক্তি আপনাদের ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। সময় হলে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।
আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কুদরত ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল আলম রিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের
খনন কাজ শুরু
নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় টিউবের খনন কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউব খনন কাজের উদ্বোধন করেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সেতুমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের শতকরা ৬১ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন এ টানেল দক্ষিণ এশিয়ার নদীর নিচে প্রথম টানেল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম শহর চীনের সাংহাই নদীর মতো ‘ওয়ান সিটি অ্যান্ড টু টাইন’ মডেল গড়ে উঠবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রান্তে এ সময় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে যুক্ত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক হারুন উর রশিদসহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নৌবাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিগণ।